কল্‌মীশাকের ক্ষতি ও উপকারীতা

কল্‌মীশাকের ক্ষতি ও উপকারীতাঃ

আমরা সচরাচর বলতে গাছ-গাছড়ার পাতাকেই বুঝে থাকি। কবিরাজী শাস্ত্রে শাক শব্দে পত্র, অঙ্কুর, কান্ড, মূল, মজ্জাদিও নামে উল্লিখিত হয়েছে।

কল্‌মীশাকঃ-

কল্‌মী শাকের গুণ-স্তন্যদুগ্ধজনক, শুক্রবর্দ্ধক। বায়ুনাশক, কফজনক ও বলবর্দ্ধক। অর্থাৎ রক্ত-প্রবৃত্তিরোধক, মূর্চ্ছা, তৃষ্ণা, দাহ ও ঘর্ম প্রশমক, বাত, দূরকারক, পুষ্টিপ্রদ ও শ্লেষ্মাজনক।

আমাদের দেশে প্রসূতির স্তন্যদগ্ধ বৃদ্ধির জন্যে কল্‌মীর ঝোল প্রসূতিকে খেতে দেয়া হয়। হিষ্টিরিয়া রোগী ও মস্তিষ্ক-বিকারগ্রস্ত ব্যক্তির পক্ষে কল্‌মীশাক বিশেষ উপকারী। বসন্ত রোগরে প্রথমেই এ শাকের রস পান করালে বসন্তের গুটিগুলো শীঘ্রই বেরিয়ে পড়ে এবং এ রোগের বিষ কেটে যায়। তবে যাদের শরীরে ফোঁড়া, খাস বা পাঁচড়া থেকে পুঁজ পড়তে থাকে, তাদের পকেষ কল্‌মীশাক নিষিদ্ধ। কারণ, এতে পুঁজ আরও বেড়ে যায় ও তাড়াতাড়ি শুকাতে চায়না।

কবিরাজী ও হাকীমী শাস্ত্রে বলা হয়ঃ- আষাঢ় থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত কল্‌মীশাক খেলে নান রকমের রোগ উৎপন্ন হয়, সুতরাং ঐ সময় এ শাক না খাওয়া উচিত।

আবার বাসী কল্‌মীশাক, বিশেষ ক্ষতিকর, সেজন্য এ শাক টাটকা তুলে অল্প আঁচে রান্না করে খাওয়া উচিত।এক দিনের শাক এক দিনেই খাওয়া যুক্তিসংগত। কবিরাজী শাস্ত্র মতে কল্‌মীশাক প্লীহা, রক্তপিত্ত ও অর্শ রোগে বিশেষ উপকারী এবং বায়ু, পিত্ত ও কফ ত্রিদোষ নিবারণ করে। কলমীশাকের ডগা ছেঁচে এক ছটাক মাত্রায় রস পান করলে বিষ নষ্ট হয় ও বিষ কেটে যায়।

আর্সেনিক ও আফিং এর বিষেঃ- এ দুটি বেশি পরিমাষে খেয়ে শরীরের বিষক্রিয়ায় রোগী যদি বমি করতে শুরু করে, তবে ৩৫ থেকে ৭০ মিলিলিটার পরিমাণ এ শাকের রস খাওয়ালে বিষক্রিয়া বিনষ্ট হয়ে যায়। তখন রোগীর মৃত্যু আশঙ্কা থাকে না।

স্তনে ফুসকা রোগেঃ-কলমীশাকের পাতা ভালভাবে বেটে সেটা গরম করে স্তনে লাগাতে হয়। ফুসকা পেকে গেলে, তবে কল্‌মীপাতার রস দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। তিন থেকে চারদিনের মধ্যে স্তনের ফুলা কম এবং শক্ত ভাবটা নরম হয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তাছাড়া বসে যাওয়া দুধ তরল হয়ে বেরিয়ে আসবে।

ফোঁড়ার মুখ না হলেঃ ফোঁড়া পেকে ভিতরে পূঁজ জমে আছে। কিন্তু ফোঁড়ার মুখ না হওয়ায় পুঁজ বের হতে পারছে না। ফলে অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে। এরকম ক্ষেত্রে পুঁজ বসতে শুরু করলে কষ্ট চর্তুগুণ বেড়ে যায় কল্‌মীশাকের ডগা ও শিকড় বেটে ফোঁড়ার ওপর পুরু করে লাগিয়ে দিলে মুখ হয়ে পুঁজ-রক্ত বের হয়ে যাবে।

তরল বীর্য ও স্বপ্নদোষঃ- এ শাকের রস ৩ চামুচ এবং অশ্বগন্ধার মূলের গুঁড়া দেড় গ্রাম গরুর এক কাপ দুধে মিশিয়ে রাতে শোবার সময় একবার করে খেলে বীর্য গাঢ় হবে এবং স্বপ্নদোষ ও বন্ধ হবে।

প্রসূতি মলিলাদের বা মেয়েদের স্নায়বিক দুর্বলতায়ঃ- দীর্ঘদিন রোগ ভোগের পর অথবা সন্তান প্রসব হলে মহিলাদের শরীর সাধারণ ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে স্নায়বিক দুর্বলতাও দেখা দেয়। কল্‌মী-কান্ড ও পাতা বেটে তার রস ২০ মিলি লিটার এক কাপ ঠান্ডা দুধ ও এক চামচ মিসরীর গুঁড়া মিলিয়ে রোগ সকালে একবার করে খেলে স্নায়বিক ও সাধারণ দুর্বলতা, উভয় ক্ষেত্রেই উপকার পাওয়া যায়। তবে নিয়ম করে অন্ততঃ দুই সপ্তাহ খেতে হবে।