কৃষ্ণকলি ফুলের উপকারীতা

কৃষ্ণকলি ফুলের গুণাগুণঃ

আপনি জানেন কি? কৃষ্ণকলি ফুল আপনার কি কি উপকারে আসতে পারে?

কৃষ্ণকলি গাছটি সাধারণত সাদা, কাল, লাল, সাদালাল, ও হলুদ এ পাঁচটি রং-যুক্ত ফুলের জন্যে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত। কৃষ্ণকলি গাছের শিকড় গোলাকার এবং লম্বা। তবে ভিতরটা সাদা ও সামান্য সবুজ রঙের। পুরানা শিকড় শুকিয়ে গেলে শক্ত হয়ে যায়। নতুন শিকড় চামড়ার মত।

পাতাগুলো দেখতে অনেকটা পানের মত। লম্বায় দুই থেকে আড়াই ইঞ্চি হয়। হৃদপিন্ডের মত ফুলের ধারাগুলো কাটা থাকে, পাঁপড়ি অবিভক্ত। পুষ্পদল প্রায় এক ইঞ্চির মত হয়। পাপড়ি থাকে চার থেকে পাঁচিটি।

বিভিন্ন অসুখে এর ব্যবহার রয়েছেঃ

অর্শ রোগেঃ কৃষ্ণকলি গাছের টাটকা শিকড় ত্রিশ গ্রাম একটা মাটির পাত্রে রেখে তাতে ১৫০ মিলিলিটার ঠান্ডা পানি দিয়ে আঁচে সিদ্ধ করতে হবে। পানি ফুটে ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিলিলিটার পারিমাণ হলে পাত্র আঁচ থেকে নামিয়ে ঠান্ডা পানি সিদ্ধ করা এবং শিকড় খেলে অর্শ রোগে অবশ্যই উপকার পাওয়া যাবে।

সর্দি ও কাশিতেঃ কৃষ্ণকলি গাছের শুক্‌না মূল মিহি ভাবে গুঁড়া করে তিন গ্রাম দু’চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে সকাল বিকাল একই পরিমাণে খেলে সর্দি ও কফ-কাশি সেরে যায়। ঔষধটি চার-পাঁচদিন খেতে হবে।

পেট পরিষ্কার করতেঃ কৃষ্ণকলি গাছের শুক্‌না বীজ তিন থেকে চার গ্রাম ভালভাবে গুঁড়া করে, সে গুঁড়া রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর শোয়ার সময় এক গ্লাস ঠান্ডা পানির সাথে খেলে সকালে পায়খানার সাথে সমস্ত জমে থাকা মল বেরিয়ে আসবে ও পেট পরিষ্কার হয়ে যাবে।

পুষ্টির অভাবেঃ শরীরে পুষ্টির অভাব হলে কৃষ্ণকলি গাছের শুকনা শিকড় গুঁড়া দশ থেকে পনের গ্রাম এক চামচ গাওয়া ঘি দিয়ে ভেজে, সেটা দিনে একবার করে কিছু দিন খেলে দেহে পুষ্টির অভাব পূরণ হয়ে যাবে।

ফোঁড়া ও বাগী ফাটাতেঃ ফোঁড়া থেকে ও বাগী প্রচন্ড যন্ত্রণাদায়ক। বাগী কুঁচকির ঠিক নিচে হয়। গরম পানির সেঁক দিলেও বাগী ফাটতে চায় না। এ ক্ষেত্রে কৃষ্ণকলি গাছের পাতা পঞ্চাশ গ্রাম একটা মাটির পাত্রে বাটিতে রেখে তাতে ১০০ মি.লি পানি দিয়ে অল্প আঁচে জ্বাল দিতে হবে। পানি কমে ১০-১৫ মি.লি. হলে আঁচ থেকে নামাতে হবে। সে পানিতে তুলা ভিজিয়ে ফোঁড়া এবং বাগীর ওপর পুলটিস দিলে দু’তিন দিনের মধ্যেই ফোঁড়া বা বাগী পেকে যায়। তাছাড়া পুলটিস দিলে যন্ত্রণাও অনেক কম হয়।