যে কাউকে দিয়ে আপনি আপনার কাজ করিয়ে নিতে পারেন>>>

যে কাউকে দিয়ে আপনি আপনার কাজ করিয়ে নিতে পারেন>>>

বন্ধুরা, আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব সাইকোলজিক্যাল সাইন্সের এমন কিছু ট্রিকস যেগুলকে কাজে লাগিয়ে আপনি যে কাউকে আপনার মনের মত কাজ করিয়ে নিতে পারেন। সবাই চায় যে তার কথা সবাই মেনে চলুক। একজন ভাল মানুষ কিংবা একজন খারাপ মানুষও এটাই চায়। আর এর দুটো রাস্তা, প্রথমটি হল কাউকে জোর করিয়ে তাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়া এবং দ্বিতীয়টি হল তার ইচ্ছে অনুযায়ী কাজ করিয়ে নেয়া। অনেক রিসার্চ করার পরে সাইন্টিস্টরা জানতে পেরেছে যে আমাদের ব্রেনের একটা পার্ট যেটা যেকোনো ডিসিশন নেয়ার সময় কাজ করে। অর্থাৎ মনে করুন আপনি কাউকে একটা কাজ করতে বললেন বা তার কাছে কোনো হেল্প চাইলেন। এবার সেই ব্যাক্তি আপনার কাজটি করবে কি করবে না সেটা নির্ভর করছে তার ডিসিশন মেকিং ব্রেনের উপরে। আর সাইন্টিস্টরা এমন কিছু রিসার্চ করার পরে জানতে পেরেছে যে আমাদের ব্রেনের সেই ডিশিসন মেকিং পার্ট কেমন করে কাজ করে। আপনি এই ট্রিকস গুলকে কাজে লাগিয়ে যে কাউকে দিয়েই আপনার মনের মত কাজ করিয়ে নিতে পারবেন। সে ডিসিশন নেয়ার আগেই। দশ জনের মধ্যে নয় জনের ক্ষেত্রেই এই ট্রিকগুলি কাজ করে। তাহলে চলুন দেখে নেই সেইসব ট্রিক্গুল কি কি।

নম্বর ওয়ান দা ডোর ইন দা ফেস অ্যাপ্রোচ-

আপনি আপনার অপোজিট পার্সনকে প্রথমে এমন একটা কাজ করতে বলুন যেটা সে করবেনা। অর্থাৎ খুবি বরো একটা কাজ। আপনি জানেন সে সেটা করবেনা কিন্তু তবুও তাকে বলুন। আর সে যখন আপনার এই কাজটি করতে চাইবে না তখন আপনি তাকে সেটা করতে বলুন যেটা আপনি আসলেই তাকে দিয়ে করাতে চান। যেটা প্রথম কাজের তুলনায় অনেক ছোটো কাজ। ৯০ ভাগ চান্স থাকে সে আপনার কাজটি করেই দেবে। এই ট্রিকটি মানুশের eq অর্থাৎ ইমোশনাল কোয়েশন এর উপরে কাজ করে। আপনি যখন কাউকে কিছু করতে বলবেন যেটা খুবি সময় সাপেক্ষ তখন সে সেটা করতে বারন করে দেবে। কিন্তু যখন আপনি আপনার আসল কাজটি করতে বলবেন যেটা আপনি তাকে দিয়ে করাতে চান যেটা আগের তুলনায় খুবি সহজ তখন সেই ব্যাক্তি তার ইমোশনাল কোয়েশনকে বাচিয়ে রাখতে আপনার কাজটি অবশ্যই করে দেবে। অনেক বরো বরো কম্পানি এই ট্রিকের ব্যাবহার করে থাকে তাদের কাস্টোমারদের উপরে।

নম্বর টু গেট ফেভার-

আপনার যদি কারোর কাছে সাহায্যের প্রয়োজন পরে তাহলে তাকে বলুন আপনাকে সাহায্য করতে। আপনি হয়ত ভাবছেন এখানে আবার ট্রিকের কি হল। সাহায্য চাইতে হলে এমনিতেই সাহায্য চেয়ে নেব। কিন্তু এই ট্রিককে বেঞ্জামিন ফ্রাংক্লিন ইফেক্টও বলা হয়। একবার বেঞ্জামিন এমন একজনের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ন বই চায় যে ব্যাক্তি বেঞ্জামিনকে পছন্দ করত না। কিন্তু তার পরেও সেই ব্যাক্তি তাকে বইটি দিয়ে দেয়। এবং বেঞ্জামিন সেই ব্যাক্তিকে খুব বিনয়ের সাথে থ্যাংক ইউ বলে। আর এর পরের থেকে যে ব্যাক্তি বেঞ্জামিনের সাথে কথা পর্যন্ত বলতে চাইত না সেই ব্যাক্তি তার খুব ভাল বন্ধু হয়ে যায়। এটাকে সাইন্টিস্টরা স্টাডি করে এবং এর থেকে জানা যায় যে যখন কোনো ব্যাক্তি কাউকে সাহায্য করে তখন তার ব্রেনের ওয়েভের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। আর সেই ব্যাক্তি সাব কনসিয়াসলি খুব ভাল ফিল করে। আর এর জন্যেই আমরা যদি কাউকে পছন্দ নাও করি কিন্তু তবুও তাকে একবার সাহায্য করার পরে আমাদের ব্রেন স্যাটিসফ্যাকশনকে ফিল করে। আর একবার কারোর কাছে সাহায্য নেয়ার পরে আমাদের জন্য সেই ব্যাক্তির মনে থাকা নেগেটিভিটি দূর হয়ে যায় এবং পরবর্তিতেও সে আরো সাহায্য করে।

নম্বর থ্রি- নেম অ্যান্ড টাইটেল-

নিজের নাম এবং টাইটেল শুনতে সবারই ভাল লাগে। কাউকে যখন তার নাম ধরে ডাকা হয় তখন তার ব্রেনে সেই সাউন্ডের ভাইব্রেশন প্রবেশ করে যেটা তাকে খুবই ভাল ফিল করায়। কাউকে নাম ধরে ডাকলে চান্স থাকে সে আপনার কথাকে গুরুত্ব দিয়ে আপনার কাজটিও করে দিতে পারে। কিন্তু সব জায়গায় এবং সবাইকে নাম ধরে ডাকা সম্ভব নয়। তখন আপনি তার টাইটেলের ব্যাবহার করতে পারেন। যেমন আপনি কোনো ডক্টরের কাছে গেলে সেই ডক্টরকে শুধু ডক্টর না বলে ডক্টরের শেষের নামটাও বলুন। এতে সেই ব্যাক্তি সাব কনসিয়াসলি স্যাটিসফ্যাকশন ফিল করে। আর যার ফলে সে আপনাকে অন্যদের থেকে একটু বেশি হলেও ইমপর্টেন্ট দেবে।

নম্বর ফোর- মিররিং-

আপনি যার কাছে ইমপর্টেন্ট পেতে চান তার চালচলনকে নকল করুন। কিন্তু এগজ্যাক্টলি কপি করবেন না এতে সে বিরক্ত হতে পারে। তার কথা বলার ধরন, বডি ল্যাংগুয়েজ ইত্যাদিকে কিছুটা কপি করুন। আপনি হয়ত লক্ষ করেছেন যে আপনি সেইসব ব্যাক্তিকেই বেশি পছন্দ করেন যারা আপনার মত। যাদের থিংকিং এর সাথে আপনার মিল আছে আপনি তাদের সাথেই সময় কাটাতে ভালবাসেন। আর তারাই হয় আপনার বন্ধু। কারন সাব কনসিয়াসলি আমরা তাকেই বেশি পছন্দ করি যারা আমাদের মত। আর এই ট্রিককে কাজে লাগিয়ে আপনি অনেকের থেকেই কাজ করিয়ে নিতে পারেন।

নম্বর ফাইভ- কমপ্লিমেন্ট –

আপনি তাকে কমপ্লিমেন্ট দিন যাকে দিয়ে আপনি কাজ করিয়ে নিতে চান। আপনি তার তারিফ করুন। নিজের তারিফ শুনতে পৃথিবীর নিরানব্বই ভাগ মানুষই পছন্দ করে। যখন আপনি বুঝতে পারেন কেউ আপনার মিথ্যে তারিফও করছে। আপনাকে বাহবা দিচ্ছে তখনও আপনার ভীষণ ভাল লাগে। সাব কনসিয়াসলি আপনার মাইন্ড তাকে পছন্দ করতে শুরু করে। তাহলে ভাবুন যদি আপনি কারোর সত্যি সত্যি তারিফ করেন তাহলে তার স্যাটিসফ্যাকশনের লেভেল কোথায় যাবে। আপনি যখন কারোর তারিফ করেন তখন তার সুপিরিওটি বেরে যায়। সে আরো বেটার হতে চায় সেই ফিল্ডে। আর তারিফ করার পরে যখন তাকে আপনি কিছু করতে বলবেন তখন চান্স থাকে সে আপনার কাজটি করে দেবে। কিন্তু দেখবেন সামনের ব্যাক্তি যাতে আপনার ইন্টেনশন বুঝতে না পারে।

এই ট্রিক গুলর মধ্যে আমি নিজেও অনেক গুলর ব্যাবহার করেছি। বিশ্বাস করুন এই ট্রিকগুল অবশ্যই কাজ করে। আপনিও এই ট্রিক গুলর ব্যাবহার করে দেখতে পারেন। কমেন্ট করে আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না।
ধন্যবাদ।

{বিঃদ্রঃ- আপনি যদি লজ্জাতুন নেছা বইটি সংগ্রহ করেন, তাহলে আপনার পার্শোনাল সমস্যা গুলো আপনি নিজেই সমাধান করতে সক্ষম হবেন তাই আর দেরি না করে আমাদের মোবাইল এ্যডমিনের সাথে এখনি যোগাযোগ করে বইটি ক্রয় করুন। আপনি যেখানেই থাকুন না কেন আমাদের মোবাইল এ্যডমিন আপনার কাছে বইটি পাঠিয়ে দিবে কুরিয়ার সার্ভিস এর মাধ্যমে... ধন্যবাদ}