রোগ দূরীকরণ

ফুল-ফল, লতা-পাতা, গাছ-গাছড়া দিয়ে বিভিন্ন রোগ দূরীকরণঃ

কবিরাজী হাকীমী এবং আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে শাক-সব্জী, লতা-পাতা ও ফল-ফলাদির বহুগুণাগুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অতি প্রাচীনকাল থেকে এগুলোর দ্বারা মানুষ অসুখ-বিসুখে উপকৃত হয়ে আসছে। হাকীম লোকমানও এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা করে অমর হয়ে রয়েছেন। তার বর্ণিত পদ্ধতিরই আলোচনা হচ্ছে এই ওয়েব সাইটে।

বর্তমানে অনেকেই গাছ-গাছড়া চেনেন না, জানেন না। গাছ-গাছড়ার গুণাবলী সম্বন্ধে মানুষের পুঁথিগত বিদ্যা থাকতে পারে, কিন্তু গাছ-গাছ চেনা সম্বন্ধে মানুষের জ্ঞান খুবই নগণ্য। এ কারণে স্বদেশী ও বিদেশী দ্রব্যগুলোর নাম ও গুণাবলী সম্বর্কে জানা বিশেষ প্রয়োজন।

আমাদের এদেশ প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ। সারা দেশেই ছড়িয়ে আছে নানান উপকারী গাছ-গাছড়া। বহুপ্রাচীনকাল থেকে এ সমস্ত গাছ, লতা, পাতা মানুষের বিভিন্ন রোগে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ অমূল্য সম্পদ বর্তমানে সমাদৃত হচ্ছে।

যে সব গাছ-গাছড়াকে আমরা জানিনা, চিনিনা তার গুণ- সেসব উপেক্ষিত গাছ-গাছড়া ও তার গুণাবলী আমাদের এ ওয়েব সাইটে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। যে কোন রোগে এসব গাছান্ত ঔষধ প্রয়োগ করা যেতে পারে। এর কোন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই। এ ওয়েব সাইটে যে সব গাছ-গাছড়ার আলোচনা করা হয়েছে, সে গুলি সর্বত্রই পাওয়া যায়। আর এসবের দাম নাগালের মধ্যেই বা কোন কোন গাছ একটু চেষ্টা করলেই হাতের কাছে বা আশেপাশেই পাওয়া যায়। আজকাল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ঔষধ আবিষ্কার হওয়ার ফলে অনেকেই গাছান্ত ঔষধের আস্থা রাখতে পারেন না। এ ধারণা কোন ক্রমেই সঠিক নয়। কেননা অতীতকাল থেকে এর ফলাফল পরিক্ষিত হয়ে আসছে এবং তখন মানুষ এর দ্বারা উপকৃতও হয়েছিল এবং বর্তমানেও হচ্ছে সে অতীত ইতিহাস কারো অজানা নয়। আমাদের এই ওয়েব সাইটে মূলত বিশ্ববিখ্যাত চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক লোকমান হাকীমের পদ্ধতি অনুসরণে গাছ-গাছড়া, লতা, পাতার গুণাগুণের ধারাবাহিকতারই পর্যালোচনা। গাছান্ত চিকিৎসা তথা হাকীমী শাস্ত্রে তাঁর নির্দেশিত পদ্ধতিতে অর্থ্যাৎ তিনি যে সব গাছ, লতা-পাতা ইত্যাদি উপকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সে গুলো এবং বর্তমানে আরও কিছু যা আবিষ্কৃত হয়েছে তার সবই আমাদের এই ওয়েব সাইটে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

বর্তমানে বাজারে গাছ-গাছড়ার গুণাগুণ সম্পর্কে অনেক নামি-দামী বই প্রচলিত আছে, তা সত্বেও আমাদের এই ওয়েব সাইট টি একটু ব্যতিক্রমধর্মী এবং যা পাঠকালে পাঠকের কাছে বিবেচিত হবে এবং অনেক অজানা কথা এর মাধ্যমে জানতে পারবেন। তখন আপনার মনে গাছান্ত ঔষধের প্রতি একটা আগ্রহ সৃষ্টি হবে, যা আপনি এতদিন উপেক্ষা করেছিলেন। আমাদের এই ওয়েব সাইটে যে সব গাছ-পালার সাথে পরিচিত এবং বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় গাছের পাতা, ছাল, ফুল, শিকড় রস প্রভৃতি ব্যবহার করে উপকার পেয়েছেন- সেসব গাছ-পালার গুণাগুণ সম্পর্কেও বিশেষভাবে অনেক তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

আমাদের এই ওয়েব সাইটে গাছ-পালার গুণাগুণ, ব্যবহার বিধি-বিধান যেমন বর্ণিত হয়েছে, ঠিক তেমনি তার সাথে রয়েছে চিত্র। ফলে, পাঠকের গাছ-গাছড়া চিনতে খুব একটা অসুবিধা না হওয়ারই কথা। এছাড়া রয়েছে, কোন রোগে কোন গাছ এবং তার শিকড়, গাছের ছাল, আঠা, বীজ ইত্যাদি কিভাবে ও কতটা পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে তারও রয়েছে বর্ণনা। এক কথায় বলা চলে গ্রন্থটি স্বয়ং সম্পূর্ণ।

আগের রতি, আনা, তোলায় যে মাপ ছিল, বর্তমানে তার পরিবর্তে মেট্রিক মাপ প্রবর্তন করা হয়েছে। সেজন্য এখানে এসব বিবরণ উল্লেখ করা হল।

আগে ছিলঃ-

৬ রতি=১ আনা।
১২ রতি=১ মাষা।

১৬ আনা=১ তোলা।

১ গ্রাম=৮ রতি।

এখন হয়েছেঃ-

৬ রতি বা ১ আনা=০.৭৫ গ্রাম।

১২ রতি বা ১ মাষা=১.৫০ গ্রাম।

১ সিকি=৩ গ্রাম।

১ রতি=১২৫ মিলিগ্রাম।
উপরোক্ত নিয়মেই রতি, আনা, তোলাকে বর্তমানের মাপ গ্রামে পরিবর্তিত করা যায়। আমরা মনে করি আমাদের এই ওয়েব সাইট টি পাঠ করে এদেশের মানুষ ও বিদেশের বাঙালী ভাই ও বন্ধুদের গাছান্ত চিকিৎসায় প্রচুর পরিমাণে উপকৃত হবেন এতে কোন সন্দেহ নাই।

বিঃদ্রঃ- আপনাদের যদি কোন ধরণের ঔষধি জিনিস পত্রের প্রয়োজন পড়ে তাহলে আপনারা অবশ্যই আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন আমরা যথা সাধ্য চেষ্টা করবো আপনাকে সেই মূল্যবান জিনিসটি পৌঁছে দিতে। আমাদের এই আলোচনাগুলি আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং সকলকে সুস্থ থাকার জন্য সাহায্য করুন। ধন্যবাদ।।।

কালকাসুন্দাঃ

বর্ষাকালে পতিত জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে এ গাছ জন্মে। এর ফল হলুদ রঙের এবং মটর শুটির মত শুটি হয়। শুটি শুকিয়ে গেলে এর বীজ রে হয়ে থাকে।

বিভিন্ন জায়গায় এই তিন নামে ডাকে- কালকাসুন্দা, কালকাসুন্দি ও কালকেসেন্দা।

বিভিন্ন রোগে এর ব্যবহার রয়েছেঃ

রক্ত দুষ্ট হলেঃ এক তোলা পরিমাণ কালকাসুন্দার পাতার রস মিসরীর চূর্ণসহ সকালে নিয়মিত খেলে রক্তদোষ নিবারিত হয়ে থাকে।

কাশি হলেঃ এক তোলা পরিমাষ কালকাসুন্দার পাতার রস আধ সের পানিসহ আগুনে সিদ্ধ করে আধ পোয়া থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে সেবন করলে বিশেষ উপকার পাওয়া।

পিত্তদোষ হলেঃ কালকাসুন্দার পাতার রস এক তোলা পরিমাষ মধুসহ নিয়মিত সেবন করলে পিত্তদোষ সেরে যায়।

কোষ্ঠবদ্ধতায়ঃ কালকাসুন্দার পাতার এক তোলা পরিমাণ গরম পানিসহ নিয়মিত সেবন করলে কোষ্ঠ পরিষ্কার হয়।

রামবাসক গাছের উপকারীতাঃ

রামবাসক গাছটি সাধারণ বাসক গাছ। আমাদের দেশের সর্বত্রই জন্মে। রামবাসকের পাতা বোঁটা থেকে ঝুলে থাকে এবং কিছুটা গোল ধরণের ও আগার দিকটা বর্শার ফলার মত দেখতে। পাতার রস খুবই তিতা।

এগাছের ফুলের রং কমলা রঙের হয় অথবা কখনো কখনো ইঁটের মত লাল হয়। ফলের আকৃতি চারকোণা বাক্সের মত। প্রতিটি ফলের মধ্যে ১২ থেকে ১৪ বীজ থাকে।

এই রামবাসক গাছটি আমাদের বিভিন্ন রোগের ঔষধ হিসাবে সাহায্য করে।

হুপিং কাশিতেঃ সাধারণ সুর্দি-কাশির থেকে হুপিং কাশি খুবই কষ্টদায়ক। এ অসুখ ছোটদের বেশি হয়।

রামবাসকের ১০ টি পাতা ১৫০ মি.লি. পানিতে ফেলে তাতে ১ গ্রাম মিসরী, ২ টি তেজপাতা, ১ গ্রাম দারুচিনি ও ১২ টি গোলমরিচ দিয়ে ফোটাতে হবে। পানি ফুটে অর্ধেকটা হলে আঁচ থেকে নামিয়ে পাতলা পরিষ্কার কাপড়ে ছেকে দিনে তিনবার চার চামচ করে তিন দিন খাওয়ালে হুপিং কাশি অবশ্যই সেরে যাবে।

মেয়েদের অতিরিক্ত ঋতুশ্রাবেঃ কম বয়েসী মেয়দের অতিরিক্ত রক্তস্রাব হলে রামবাসকের পাতার রস দু’চামচ করে দিনে দু’বার খেলে উপকার হবেই।

জ্বরেঃ কোন কারণে দেহের উত্তাপ অর্থাৎ জ্বর বেশি হলে রামবাসকের ফুল এবং বীজ বাটা খাওয়ালে রোগী আরাম পায়।

রক্তপিত্তেঃ রামবাসকের পাতা দশ গ্রাম মত পানি দিয়ে বেটে তার রস এক চামুচ মধুর সাথে মিশিয়ে খাওয়ালে উপকার হয়।

নয়ন তারাঃ

নয়ন তারা আসলে একটি বর্ষজীবী সোজা কান্ডযুক্ত গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি বহু বছর ধরে নান প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও বেঁচে থাকে। নয়নতারা গাছ লম্বায় খুব একটা বড় হয় না। সাধারণভাবে দেয় থেকে দু’ফুটের মত লম্বা হয়।

বিভিন্ন অসুখে ব্যবহারঃ

বহুমূত্র রোগেঃ রোজ সকালে নয়নতারার সাদা ফুল গাছের দু’টি পাতা খালিপেটে চিবিয়ে খেলে রোগ মোটেই বাড়তে পারে না। যাঁদের দাঁত নেই তাঁরা পাতাকে সামান্য পানি দিয়ে বেটে এক চামচ পরিমান রস-খাবেন। এ রোগটি সম্পর্কে মনে রাখা দরকার, বহুমুত্র রোগে একবার আক্রান্ত হলে, সারা জীবনে নান রকম চিকিৎসাও রোগী সম্পূর্ণ নিরাময় হয় না। কেবলমাত্র খাদ্রদ্রব্য গ্রহণ করার ক্ষেত্রে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ঔষধ খেলে রোগ আংশিক নিরাময় হতে পারে। নয়নতারা পাতাও নিয়মিত খেলে রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

রক্তের চাপ বাড়লেঃ নয়নতারা গাছের টাট্‌কা মূলের রস মাত্র পাঁচ মি.লি. সকালে খালিপেটে একবার করে খেতে হবে। তিন থেকে চারদিন খেলেই কিছুটা উপকার নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। তবে চার-পাঁচ দিন বাদে চিকিৎসকের কাছে রক্তের চাপ পরীক্ষা করে অবশ্যই দেখা দরকার।

বিষাক্ত ঘা ও ক্ষতঃ শরীরের কোন অঙ্গ কেটে গেলে অথবা ঘা যদি বিষাক্ত হয়ে যায়। তবে নয়নতারা গাছের রস উভয়ে রোগে প্রয়োগ করলে খুব ভাল ফল পাওয়া যায়। রোজ একবার করে কচি ডাল ও পাতাকে বেটে তার রস দিয়ে ঘা ধুয়ে, বেঁধে রাখতে হবে। সাতদিন ব্যবহার করলে বিষদোষ নষ্ট হয়ে যাবে এবং ঘা শুকিয়ে যাবে। অস্ত্রের আঘাতে কেটে গেল একইভাবে কাটা জায়গায় রস প্রয়োগ করে বেঁধে রাখতে হবে। ৩-৪ দিনের মধ্যেই কাটা জায়গা জুড়ে যাবে।

ব্লাড ক্যান্সারেঃ এ রোগটি আজও মানুষের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে আছে। এ রোগে আক্রান্ত রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যায়। নয়নতারা গাছেল কচি ডালে রস সকালে ও বিকালে ১০ মিলিমিটার পরিমাণ খেলে রোগের কিছুটা উপশম হয়। বর্তমানে পৃথিবীর বহু দেশে এ ব্যাপারে নয়নতারা গাছ সম্পর্কে পরীক্ষা চলাচ্ছে। কারণ, বিজ্ঞানীরা নয়নতারা গাছের পাতা ও ডালের রস থেকে প্রায় ৭০ টি ঔষধ ইতিমধ্যেই আবিষ্কার করেছেন।

শিউলি ফুলের উপকারীতাঃ

বিভিন্ন অসুখে ব্যবহারঃ

পৈত্তিক জ্বরেঃ শিউলি পাতার রস ৩ চামুচ করে দিনে তিনবার খাওয়ালে পৈত্তিক জ্বর দ্রুত ভাল হয়ে যায়।

বিষম ও অবিরাম জ্বরেঃ শিউলি গাছের ৬ টি থেকে ৮ টি পাতা সামান্য পানির সাথে বেটে তার মধ্যে টাট্কা আদার রস মিশিয়ে রোগীকে খেতে দিলে উভয় জ্বরে আরাম পাওয়া যাবে। এ ঔষধ প্রয়োগের সময় শাক-সব্জি বেশি করে খাওয়া প্রয়োজন।

মাথার খুস্‌কিতেঃ শিউলি-বীজের গুঁড়া গোসল করতে যাবার ২/৩ ঘন্টা আগে সামান্য পানি গুলে মাথার সব জায়গায় ভালভাবে ঘষে মাখতে হবে। এভাবে কয়েকদিন মাখার পর মাথার খুস্‌কি সব চলে যাবে।

পিত্ত বাড়লেঃ শিউলির ৮-১০ টি পাতা সামান্য গাওয়া ঘিয়ে ভেজে খেলে খুব উপকার পাওয়া যায়। তিন থেকে চার দিন খাওয়া দরকার। ভাতের সাথে অন্য কিছু খাবার আগে শিউলি পাতা মেখে প্রথমেই খেতে হবে।

কোমরের বাতের ব্যথায়ঃ টাট্‌কা ১৫ থেকে ২০ টি শিউলি গাছের পাতা দু-কাপ পানিতে সিদ্ধ করে আধ কাপ থাকতে আঁচ থেকে নামিয়ে ফেলতে হবে। সে পানি সকালে এবং একই ভাবে সন্ধ্যায় খাওয়া দরকার। কিছুদিন নিয়ম করে খেলে বাত রোগ আরোগ্য হয়।

ঘন সর্দি অথবা হলুদ শ্লেষ্মায়ঃ শিউলি গাছের মূল ১ গ্রাম পানের সাথে চিবিয়ে দিনে একবার খেলে সর্দি অথবা শ্লেষ্মা ভিতর থেকে বের হয়ে যায়।

ছোটদের ক্রিমি রোগেঃ শিউলি পাতার ৪ চামচ রসে আধ চামচ চিনি মিশিয়ে ছোট ছেলে মেয়েদের খাওয়ালে পেটের বড় ক্রিমি বের হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে মরা ক্রিমিও পায়খানার সাথে বের হয়ে আসে।

বিঃদ্রঃ- মাথার খুস্‌কি ছাড়া অন্যান্য রোগে শিউলিপাতা, মূলের ছাল ও ত্বক্‌ ব্যবহার করা হলে, খাদ্যের ব্যাপারে কিছু নিয়ম পালন করতে হবে। ঔষধ যে ক’দিন ব্যবহার করবে ঐ সময় মাছ, মাংস, ডিম ও পিয়াজ খাওয়া উচিৎ নয়।

কৃষ্ণকলি ফুলঃ

আপনি জানেন কি? কৃষ্ণকলি ফুল আপনার কি কি উপকারে আসতে পারে?

কৃষ্ণকলি গাছটি সাধারণত সাদা, কাল, লাল, সাদালাল, ও হলুদ এ পাঁচটি রং-যুক্ত ফুলের জন্যে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত। কৃষ্ণকলি গাছের শিকড় গোলাকার এবং লম্বা। তবে ভিতরটা সাদা ও সামান্য সবুজ রঙের। পুরানা শিকড় শুকিয়ে গেলে শক্ত হয়ে যায়। নতুন শিকড় চামড়ার মত।

পাতাগুলো দেখতে অনেকটা পানের মত। লম্বায় দুই থেকে আড়াই ইঞ্চি হয়। হৃদপিন্ডের মত ফুলের ধারাগুলো কাটা থাকে, পাঁপড়ি অবিভক্ত। পুষ্পদল প্রায় এক ইঞ্চির মত হয়। পাপড়ি থাকে চার থেকে পাঁচিটি।

বিভিন্ন অসুখে এর ব্যবহার রয়েছেঃ

অর্শ রোগেঃ কৃষ্ণকলি গাছের টাটকা শিকড় ত্রিশ গ্রাম একটা মাটির পাত্রে রেখে তাতে ১৫০ মিলিলিটার ঠান্ডা পানি দিয়ে আঁচে সিদ্ধ করতে হবে। পানি ফুটে ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিলিলিটার পারিমাণ হলে পাত্র আঁচ থেকে নামিয়ে ঠান্ডা পানি সিদ্ধ করা এবং শিকড় খেলে অর্শ রোগে অবশ্যই উপকার পাওয়া যাবে।

সর্দি ও কাশিতেঃ কৃষ্ণকলি গাছের শুক্‌না মূল মিহি ভাবে গুঁড়া করে তিন গ্রাম দু’চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে সকাল বিকাল একই পরিমাণে খেলে সর্দি ও কফ-কাশি সেরে যায়। ঔষধটি চার-পাঁচদিন খেতে হবে।

পেট পরিষ্কার করতেঃ কৃষ্ণকলি গাছের শুক্‌না বীজ তিন থেকে চার গ্রাম ভালভাবে গুঁড়া করে, সে গুঁড়া রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর শোয়ার সময় এক গ্লাস ঠান্ডা পানির সাথে খেলে সকালে পায়খানার সাথে সমস্ত জমে থাকা মল বেরিয়ে আসবে ও পেট পরিষ্কার হয়ে যাবে।

পুষ্টির অভাবেঃ শরীরে পুষ্টির অভাব হলে কৃষ্ণকলি গাছের শুকনা শিকড় গুঁড়া দশ থেকে পনের গ্রাম এক চামচ গাওয়া ঘি দিয়ে ভেজে, সেটা দিনে একবার করে কিছু দিন খেলে দেহে পুষ্টির অভাব পূরণ হয়ে যাবে।

ফোঁড়া ও বাগী ফাটাতেঃ ফোঁড়া থেকে ও বাগী প্রচন্ড যন্ত্রণাদায়ক। বাগী কুঁচকির ঠিক নিচে হয়। গরম পানির সেঁক দিলেও বাগী ফাটতে চায় না। এ ক্ষেত্রে কৃষ্ণকলি গাছের পাতা পঞ্চাশ গ্রাম একটা মাটির পাত্রে বাটিতে রেখে তাতে ১০০ মি.লি পানি দিয়ে অল্প আঁচে জ্বাল দিতে হবে। পানি কমে ১০-১৫ মি.লি. হলে আঁচ থেকে নামাতে হবে। সে পানিতে তুলা ভিজিয়ে ফোঁড়া এবং বাগীর ওপর পুলটিস দিলে দু’তিন দিনের মধ্যেই ফোঁড়া বা বাগী পেকে যায়। তাছাড়া পুলটিস দিলে যন্ত্রণাও অনেক কম হয়।

কল্‌মীশাকের উপকারীতাঃ

আমরা সচরাচর বলতে গাছ-গাছড়ার পাতাকেই বুঝে থাকি। কবিরাজী শাস্ত্রে শাক শব্দে পত্র, অঙ্কুর, কান্ড, মূল, মজ্জাদিও নামে উল্লিখিত হয়েছে।

কল্‌মীশাকঃ-

কল্‌মী শাকের গুণ-স্তন্যদুগ্ধজনক, শুক্রবর্দ্ধক। বায়ুনাশক, কফজনক ও বলবর্দ্ধক। অর্থাৎ রক্ত-প্রবৃত্তিরোধক, মূর্চ্ছা, তৃষ্ণা, দাহ ও ঘর্ম প্রশমক, বাত, দূরকারক, পুষ্টিপ্রদ ও শ্লেষ্মাজনক।

আমাদের দেশে প্রসূতির স্তন্যদগ্ধ বৃদ্ধির জন্যে কল্‌মীর ঝোল প্রসূতিকে খেতে দেয়া হয়। হিষ্টিরিয়া রোগী ও মস্তিষ্ক-বিকারগ্রস্ত ব্যক্তির পক্ষে কল্‌মীশাক বিশেষ উপকারী। বসন্ত রোগরে প্রথমেই এ শাকের রস পান করালে বসন্তের গুটিগুলো শীঘ্রই বেরিয়ে পড়ে এবং এ রোগের বিষ কেটে যায়। তবে যাদের শরীরে ফোঁড়া, খাস বা পাঁচড়া থেকে পুঁজ পড়তে থাকে, তাদের পকেষ কল্‌মীশাক নিষিদ্ধ। কারণ, এতে পুঁজ আরও বেড়ে যায় ও তাড়াতাড়ি শুকাতে চায়না।

কবিরাজী ও হাকীমী শাস্ত্রে বলা হয়ঃ- আষাঢ় থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত কল্‌মীশাক খেলে নান রকমের রোগ উৎপন্ন হয়, সুতরাং ঐ সময় এ শাক না খাওয়া উচিত।

আবার বাসী কল্‌মীশাক, বিশেষ ক্ষতিকর, সেজন্য এ শাক টাটকা তুলে অল্প আঁচে রান্না করে খাওয়া উচিত।এক দিনের শাক এক দিনেই খাওয়া যুক্তিসংগত। কবিরাজী শাস্ত্র মতে কল্‌মীশাক প্লীহা, রক্তপিত্ত ও অর্শ রোগে বিশেষ উপকারী এবং বায়ু, পিত্ত ও কফ ত্রিদোষ নিবারণ করে। কলমীশাকের ডগা ছেঁচে এক ছটাক মাত্রায় রস পান করলে বিষ নষ্ট হয় ও বিষ কেটে যায়।

আর্সেনিক ও আফিং এর বিষেঃ- এ দুটি বেশি পরিমাষে খেয়ে শরীরের বিষক্রিয়ায় রোগী যদি বমি করতে শুরু করে, তবে ৩৫ থেকে ৭০ মিলিলিটার পরিমাণ এ শাকের রস খাওয়ালে বিষক্রিয়া বিনষ্ট হয়ে যায়। তখন রোগীর মৃত্যু আশঙ্কা থাকে না।

স্তনে ফুসকা রোগেঃ-কলমীশাকের পাতা ভালভাবে বেটে সেটা গরম করে স্তনে লাগাতে হয়। ফুসকা পেকে গেলে, তবে কল্‌মীপাতার রস দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। তিন থেকে চারদিনের মধ্যে স্তনের ফুলা কম এবং শক্ত ভাবটা নরম হয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তাছাড়া বসে যাওয়া দুধ তরল হয়ে বেরিয়ে আসবে।

ফোঁড়ার মুখ না হলেঃ ফোঁড়া পেকে ভিতরে পূঁজ জমে আছে। কিন্তু ফোঁড়ার মুখ না হওয়ায় পুঁজ বের হতে পারছে না। ফলে অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে। এরকম ক্ষেত্রে পুঁজ বসতে শুরু করলে কষ্ট চর্তুগুণ বেড়ে যায় কল্‌মীশাকের ডগা ও শিকড় বেটে ফোঁড়ার ওপর পুরু করে লাগিয়ে দিলে মুখ হয়ে পুঁজ-রক্ত বের হয়ে যাবে।

তরল বীর্য ও স্বপ্নদোষঃ- এ শাকের রস ৩ চামুচ এবং অশ্বগন্ধার মূলের গুঁড়া দেড় গ্রাম গরুর এক কাপ দুধে মিশিয়ে রাতে শোবার সময় একবার করে খেলে বীর্য গাঢ় হবে এবং স্বপ্নদোষ ও বন্ধ হবে।

প্রসূতি মলিলাদের বা মেয়েদের স্নায়বিক দুর্বলতায়ঃ- দীর্ঘদিন রোগ ভোগের পর অথবা সন্তান প্রসব হলে মহিলাদের শরীর সাধারণ ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে স্নায়বিক দুর্বলতাও দেখা দেয়। কল্‌মী-কান্ড ও পাতা বেটে তার রস ২০ মিলি লিটার এক কাপ ঠান্ডা দুধ ও এক চামচ মিসরীর গুঁড়া মিলিয়ে রোগ সকালে একবার করে খেলে স্নায়বিক ও সাধারণ দুর্বলতা, উভয় ক্ষেত্রেই উপকার পাওয়া যায়। তবে নিয়ম করে অন্ততঃ দুই সপ্তাহ খেতে হবে।

পালংশাকঃ

এক প্রকার পালংশাক আছে তার নাম চুকাপালং। আর অন্য প্রকার হল ছুরিফা এ উভয় প্রকার শাকের গুণও বিভিন্ন প্রকার-

ছুরিকা পালংকে বাতজনক, শীতবীর্য, শ্লেষ্মকর, ভেদক, গুরু, বিষ্টম্ভী এবং শ্বাস, রক্তপিত্ত ও বিষদোষ বিনষ্ট করে।

আর চুকাপালঙ্কের গুণ হল- অতিশয় অম্লস, বাতঘ্ন, কফ ও পিত্তকারক, রুপিপ্রদ ও লঘুপাক। বিশেষ বেগুনের সাথে পাক করলে বিশেষ রুচিকর হয়।

পুঁইশাকঃ

পুঁই হল-শীতবীর্য, স্নিগ্ধ, শ্লেষ্মকর, বায়ু ও পিত্তনাশক; কন্ঠেন পক্ষে অহিতকর, পিচ্ছিল, নিদ্রাজনক, শুক্রবর্দ্ধক, রক্তপিত্তনিবারক; বলকর, রুচিপ্রদ, সুপথ্য পুষ্টিকারক ও তৃপ্তিজনক।

পুঁইশাক কাম উদ্দীপক। সে জন্যে অবিবাহিতদের জন্য পুঁইশাক খাওয়া একবারেই নিষিদ্ধ।

পুঁইশাক তিন প্রকারের হয়-সাধারণ, বনজ ও ক্ষুদ্রপত্র বিশিষ্ট।

বনক পুঁইশাক-উষ্ণবীর্য ও কটু-তিক্ত রসযুক্ত।

আর ক্ষুদ্রপত্র পুঁইশাকের গুণ প্রায় সাধারণ পুঁইশাকের মত।

পুঁইগাছের একটি শিকড় ভাল করে বেটে, আড়াই 2.50 গ্রাম পানি মিশিয়ে পুরাটা খেয়ে নেয়ার পর কাঁচা কলাইয়ের ডাল ভিজিয়ে ঐ ডাল চিনি দিয়ে খেলে পুরুষত্বহীনতায় বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।

যাদের গলা জ্বালা, বুক জ্বালা করে, তাদের এ শাক খাওয়া একবারেই নিশেষ।

লুণী শাকঃ

এ শাক-রুক্ষ, গুরু, অগ্নিদীপক, অম্লরস, লবণ স্বাদ এবং এতে অর্শরোগ, বায়ু, শ্লেষ্মা, অগ্নিমান্দ্য ও বিষদোষ নাশ করে।

রুক্ষঃ অর্থাৎ বায়ুজনক ও কফ- দূরকারক।

আর বড় লোণীশাকের গুণ- এ শাক অম্লরস, সারক, উষ্ণবীর্য, বাতবর্ধক এবং শোথ ও নেত্র রোগে হিতকর। এ শাক খেলে কফ, পিত্ত, চর্মরোগ, ব্রণ, গুল্ম, শ্বাস, কাশ ও প্রমেহ রোগের উপকার সাধিত হয়।

বিভিন্ন অসুখে ব্যবহারঃ

যকৃত দুর্বল হলেঃ কচি ডাল ও পাতা গাছ থেকে টাটকা তুলে এনে সেটা বেটে তার রস এক থেকে দুই চামুচ এক কাপ ঠান্ডা পানির সাথে মিশিয়ে দিনে দুইবার খেতে হবে। নিয়ম করে তিন সপ্তাহ খেলে দুর্বল যকৃত সবল হয়।

হৃদ্‌যন্ত্রের পীড়ায়ঃ পাতা ও কান্ডের টাট্‌কা রস দুই চামচ এবং সমপরিমাণ মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে হৃদ্‌যন্ত্রে পীড়ায় উপকার হয়। দিনে একবার করে সকালের দিকে খেতে হবে।

আমাশায় রোগেঃ এ গাছের শুক্‌না বীজের গুড়া ৩ গ্রাম জ্বাল দেয়া ছাগলের দুধের সাথে (ঠান্ডা অবস্থায়) সকাল এবং সন্ধ্যায় মোট দুই বার খেলে রোগের উপশম হয়। তবে সম্পূর্ণ নিরাময়ের জন্যে দশ থেকে বার দিন নিয়মিত খাওয়া দরকার।

কফের সাথে রক্ত উঠলেঃ কাশির সাথে অথবা বুকের জমা কফের সাথে রক্ত উঠলে এ পাতার রস দুই চামচ চার ঘন্টা অন্তর খেলে রক্ত ওঠা বন্ধ হয়। তবে আরও তিন চারদিন নিয়ম করে খাওয়া উচিত।

পুষ্টিকর অভাবজনিত রোগেঃ সমগ্র গাছের (কান্ড ও পাতা) রস দুই চামচ করে দিনে দুই বার অথাব তরকারিতে দিয়ে সিদ্ধ করে খেলে পুষ্টির অভাব দূর হয়।

গণোরিয়া রোগেঃ বড় লোণীয়া গাছের টাট্কা কান্ড, পাতার রস দুই চামচ এবং এর সাথে শুকনা বীজের গুঁড়া ৩ গ্রাম মিশিয়ে এক কাপ গুরুর দুধের সাথে খেলে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই উপকার পাওয়া যাবে। গাছের বীজে কোন কষ্ট বা যন্ত্রণা হয় না। তাছাড়া সমগ্র গাছ মূত্রযন্ত্রের পীড়ায় হিতকর। কাজেই গণোরিয়া রোগে এটি একটি উৎকৃষ্ট মহৌঔষধ হিসেবে গণ্য করা হয়। নিয়মিত খেলে এ রোগের সম্পূর্ণ আরোগ্য হয়।

ক্রিমি রোগেঃ যে কোন বয়সের অর্থাৎ কিশোর থেকে শুরু করে বয়ষ্ক মানুষের পেটে ছোট-বড় ক্রিমির উৎপাত হলে বীজের গুঁড়া ২ গ্রাম থেকে ৪ গ্রাম বয়স অনুপাতে সকালে খালি পেটে ঠান্ডা পানির সাথে খেলে অবশ্যই উপকার হবে।