শীতের সময় রসুনের উপকারিতা

শীতের সময় রসুনের উপকারিতাঃ

রসুনের পুষ্টিগুন

এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি মাঝারি সাইজের রসুনে এক লাখ ইউনিট পেনিসিলিনের সমান অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যক্ষমতা রয়েছে। শুধু তাই নয়, ব্যাকটেরিয়া ও প্রাটোজোয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি অ্যামিবিক ডিসেনট্রি নির্মূলের ক্ষেত্রে রসুন বেশ কার্যকরী। আর তাই শরীরের রোগ সংক্রমণ দূর করার জন্য এক সঙ্গে তিন কোয়া রসুন দিনে তিন থেকে চারবার চিবিয়ে খান।

রক্তের চাপ ও রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর জন্যও প্রতিদিন তিন থেকে দশ কোয়া রসুন খেতে পারেন। তাছাড়া রসুনের জল সেবন করতে হলে ছয় কোয়া রসুন পিষে এককাপ ঠা-া পানিতে ৬ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। তারপর ভালোভাবে ছেঁকে রসুন-জল পান করুন। উচ্চরক্তচাপ ও রক্তের কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগ প্রতিরোধে রসুনের ভূমিকা অপরিসীম। এটি প্রমাণের জন্য বিজ্ঞানীরা একদল লোকের প্রত্যেককে দৈনিক চার আউন্স পরিমাণ মাখন খেতে দিয়েছিলেন। মাখন খাওয়ার ফলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক। তারপর এ দলের অর্ধেককে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় রসুন খাওয়ানো হয়। রসুন খাওয়ার পর মাখন গ্রহণকারীদের রক্তের কোলেস্টেরল পরীক্ষা করে দেখা গেল রসুন সেবনকারীদের রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা অন্যদের চেয়ে শতকরা সাত ভাগ কম। পাশাপাশি হৃদরোগ কমানোর জন্য রসুন রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

আর তাইতো গবেষকদের অভিমত, রসুন রক্ত জমাটনিরোধী ওষুধ অ্যাসপিরিনের মতোই শক্তিশালী। রসুন খেতে হলে কাঁচা রসুন চিবিয়ে খেতে হবে। কারণ চিবিয়ে না খেলে রসুনের রাসায়নিক উপাদান এলিসিন নির্গত হবে না। এই এলিসিনই হচ্ছে শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক। রসুনের এই অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষমতা কাজে লাগানোর জন্য কাঁচা রসুন চিবিয়ে খাওয়াই ভালো। অন্যদিকে যাদের শরীর থেকে রক্তপাত সহজে বন্ধ হয় না, অতিরিক্ত রসুন খাওয়া তাদের জন্য বিপজ্জনক। কারণ রসুন রক্তের জমাট বাঁধার ক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে রক্তপাত বন্ধ হতে অসুবিধা হতে পারে। তাছাড়া অতিরিক্ত রসুন শরীরে এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে। এসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রসুন না খাওয়াই ভালো। শিশুকে দুগ্ধদানকারী মায়েদের রসুন না খাওয়াই ভালো। কারণ রসুন খাওয়ার ফলে তা মায়ের দুধের মাধ্যমে শিশুর পাকস্থলিতে ঢুকে শিশুর যন্ত্রণার কারণ ঘটাতে পারে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক হিম্পোক্রিটস মানবদেহের ক্যান্সার, ঘা, কুষ্ঠ সারাতে, রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ ও পরিপাকতন্ত্রের হজমজনিত সমস্যা দূর করতে রোগীদের রসুন খাওয়ার পরামর্শ দিতেন। শুধু তাই নয়, আধুনিক ভেষজ চিকিৎসকরাও সর্দি, কাশি, জ্বর, ফ্লু, ব্রঙ্কাইটিস, কৃমি, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য পরিপাকের সমস্যাসহ লিভার ও পিত্তথলির নানা উপসর্গ দূর করতে রসুন খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

যৌন ক্ষমতা বাড়াতে রসুনের উপকারিতা!

যৌনতার বাগিচায় যদি নতুন কিছুর শুরু না হয়, তাহলেই সর্বনাশ। মহিলাদের পাশাপাশি পুরুষদেরও বেশ কিছু যৌন সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে পুরুষদের অনুন্নত মানের স্পার্মের জন্য যৌন অক্ষমতা দেখা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি মিলি লিটার শুক্রাণুতে ২০ মিলিয়নের কম স্পার্ম থাকলে যেকোনো পুরুষ অনুর্বর হতে পারেন। বাজে খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, অ্যালকোহল, অনিয়ন্ত্রিত জীবন, ব্যায়ামে অনীহা প্রভৃতি কারণে দিন দিন অনুর্বরতা বাড়ছে। এক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক রসুন।

কেননা সুস্থ বীর্য তৈরিতে রসুনের জুড়ি মেলা ভার। যৌন অক্ষমতার ক্ষেত্রে রসুন খুব ভাল ফল দিয়ে থাকে। রসুন কে ‘গরীবের পেনিসিলিন’ বলা হয়। কারণ, এটি অ্যান্টিসেপ্টিক হিসাবে কাজ করে আর এটি অতি সহজলভ্য সবজি যা আমরা প্রায় প্রতিনিয়ত খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে থাকি।

আপনার যৌন ইচ্ছা ফিরে আনার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার খুবই কার্যকরী। কোন রোগের কারণে বা দুর্ঘটনায় আপনার যৌন ইচ্ছা কমে গেলে এটি আপনাকে তা পুনরায় ফিরে পেতে সাহায্য করে।এছাড়া যদি কোন ব্যক্তির যৌন ইচ্ছা খুব বেশী হয় বা তা মাত্রাতিরিক্ত হয় যার অত্যধিক প্রয়োগ তার নার্ভাস সিস্টেমের ক্ষতি করতে পারে এমন ক্ষেত্রে ও রসুন খুব ই কার্যকরী।

কীভাবে খাবেন রসুন: প্রতিদিন নিয়ম করে কয়েক কোয়া কাঁচা রসুন খেলে শরীরের যৌবন দীর্ঘ স্থায়ি হয় । যারা পড়ন্ত যৌবনে চলে গিয়েছেন, তারা প্রতিদিন দু’কোয়া রসুন খাঁটি গাওয়া ঘি-এ ভেজে মাখন মাখিয়ে খেতে পারেন। তবে খাওয়ার শেষে একটু গরম জল বা দুধ খাওয়া উচিৎ। এতে ভাল ফল পাবেন। যৌবন রক্ষার জন্য রসুন অন্যভাবেও খাওয়াযায়। কাঁচা আমলকির রস দুই বা এক চামচ নিয়ে তার সঙ্গে এক বা দুই কোয়া রসুন বাটা খাওয়া যায়। এতে স্ত্রী-পুরুষ উভয়ের যৌবন দীর্ঘস্থায়ি হয়।

সাবধানতা: যাদের শরীর থেকে রক্তপাত সহজে বন্ধ হয় না, অতিরিক্ত রসুন খাওয়া তাদের জন্য বিপদ জনক। কারণ, রসুন রক্তের জমাট বাঁধার ক্রিয়াকে বাধা প্রদান করে। ফলে রক্তপাত বন্ধ হতে অসুবিধা হতে পারে। তা ছাড়া অতিরিক্ত রসুন শরীরে অ্যালার্জি ঘটাতে পারে। এসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রসুন না খাওয়াই উত্তম। রসুন খাওয়ার ফলে পাকস্থলীতে অস্বস্তি বোধ করলে রসুন খাওয়া বন্ধ রাখুন। শিশুকে দুগ্ধদানকারী মায়েদের রসুন না খাওয়াই ভাল। কারণ রসুন খাওয়ার ফলে তা মায়ের দুধের মাধ্যমে শিশুর পাকস্থলীতে ঢুকে শিশুর যন্ত্রণার কারণ ঘটাতে পারে।