সংখ্যা তত্ত্ব ও ভাগ্য গনণা

সংখ্যা তত্ত্ব ও ভাগ্য গনণাঃ

হ্যালো বন্ধুরা আজকে আমি  এমন একটি বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি, যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি প্রত্যেকেরই জানা উচিৎ। কারণ এই বিষয়টির উপর লুকিয়ে রয়েছে আমাদের সকলের জিবনের ধারা বা পথ চলা। তাই আপনারা কেউ এই বিষয়টিকে অবহেলার সহিত দেখবেন না। আমি চাচ্ছি যে, এই বিষয়টি আজকে একটি আলোচনার মধ্যেই শেষ করে দিবো। তাই আপনারা ধৈর্য্য ধারণ করে পুরো আলোচনাটি পড়বেন, তাহলে আমার লেখাটি সার্থক হবে।

 সংখ্যা তত্ত্ব বিদ্যা কি ?

জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি জীবনের প্রতিটি মূহূর্তেই মানুষ নিজেকে, নিজের পরিমন্ডলকে, সময়কে এককথায় সবকিছুকে একমাত্র সংখ্যা দ্বারাই পরিচিত করে। আর তা করে প্রায় অসচেতন থেকেই। যেমন,- কারোনাম, স্থানেরনাম, বিষয়েরনাম বা দিন, তারিখ, সময় ইত্যাদি যা কিছুই বলিনা কেন সব কিছুর মাঝেই লুকিয়ে আছে সংখ্যা! কিভাবে? সংখ্যার সেই আধিভৌতিক দিক নিয়েই আলোচনা করে সংখ্যাতত্ত্ববিদ্যা। সভ্যতা বিকাশের সাথে সাথে মানুষ স্পষ্টতঃ অনুভব করেছে যে, জগতের সকল কর্মকান্ডই সংখ্যা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই অনুভব থেকে অনুসন্ধিৎসা, কৌতুহল ও আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়ে গবেষণা, চর্চ্চা এবং অনুশিলীত হয়ে আধুনিক সংখ্যাতত্ত্ববিদ্যায় রূপ নিয়েছে। সংখ্যার যে একটি আধিভৌতিক (Mistrious) ভূমিকা জীবনে ও জগতে রয়েছে এ সম্পর্কে আজ আর বিতর্কের অবকাশ নেই। তবুও পৃথিবীর দেশে দেশে সংখ্যাতাত্ত্বিকগণ সংখ্যার আধিভৌতিক প্রভাব সম্পর্কে আরো ব্যাপক গবেষণা চালাচ্ছেন। আমি নিজেও প্রায় ৪০ বছর যাবত এ সম্পর্কিত গবেষণায় রত থেকে জীবন ও জগতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংখ্যার প্রভাব দেখে যাচ্ছি। আমি কোথাও সংখ্যা সম্পর্কিত মূলনীতির ব্যতিক্রম দেখছিনা! সংখ্যার এই অতিন্দ্রীয় প্রভাবই আধুনিক সংখ্যাতত্ত্ববিদ্যার (Modern Numerology) আলোচ্য বিষয়।

সংখ্যাতত্ত্ববিদ্যা বস্তুতঃ

জ্যোতিষবিদ্যার চেয়েও প্রাচীন। জগতের প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থ সমূহে এর উল্লেখ রয়েছে। বেদ, বাইবেল প্রভৃতিতে এর উল্লেখ দেখা যায়। পবিত্র কোরআন শরীফে সূরা সমূহের সংখ্যায়িত লিখন পদ্ধতি দেখতে পাই। তাবিজ-কবজ লিখকগণ প্রায়শঃ সংখ্যায়ন পদ্ধতিতে লিখে থাকেন। সংখ্যাতত্ত্বের আবিষ্কার মানুষকে জ্যোতিষবিদ্যা (Astrology) এবং জ্যোতিষ্কবিদ্যার (Astronomy) প্রতি আকৃষ্ট করেছে। গ্রীক দার্শনিক পিথাগোরাসকে (Pythagoras খৃষ্টপূর্ব ৫৮২-৬০৭) আধুনিক সংখ্যাতত্ত্বের জনক বলা হয়ে থাকে। অবশ্য তারও বহু পূর্বে ধ্বংশপ্রাপ্ত ব্যাবিলনীয় সভ্যতার যুগেও এই বিদ্যার অনুশীলন হইত বলে প্রমান পাওয়া গেছে। পিথাগোরাসের অনুসারী ফিলোলাস (Philolus), নিকোমাকাস (Nichomachus) ছাড়াও হেরোডোটাস (Herodotus), সক্রেটিস, প্লেটো, এরিষ্টটল প্রমূখ গ্রীক পন্ডিতগন, এমনকি আইনস্টাইন সহ অন্যান্য খ্যাতিমান পন্ডিতগন এই বিদ্যার অনুশীলন করেছেন। এবং সংখ্যার অসীম ক্ষমতার কথা স্বীকার করেছেন। পরবর্তিকালে অধ্যাবদি বিশ্বব্যাপী অকাল্ট সায়েন্সের অনুরাগীগণ এস্ট্রলজি, পামিস্ট্রি এবং অন্যান্য মিস্ট্রিক সায়েন্সের পাশাপাশি এই অতিন্দ্রীয় সংখ্যাতত্ত্বেরও চর্চ্চা করে আসছেন।

সংখ্যাতত্ত্বের সাথে ফলিত জ্যোতিষের (Applied Astrology) সম্পর্ক অতি নিবিড়। ফলিত জ্যোতিষে ১২টি রাশি আছে এবং ৯টি গ্রহ তাদের অধিপতি (Ruling Planet)। অঙ্কের জগতে মৌলিক সংখ্যা ৯টি (১ থেকে ৯)। শূণ্য কোন সংখ্যা নয়, তবে সংখ্যার পাশে বসে তার মান বৃদ্ধি করেমাত্র। তা পৃথিবী বা Univers এর প্রতীক। গানিতিক অঙ্ক যত বড়ই হোক তার পারস্পরিক যোগফল মৌলিক একক সংখ্যায় রূপান্তর করা যায়। আর এই মৌলিক রূপান্তরই হচ্ছে সংখ্যাতত্ত্বের প্রতিপাদ্য বিষয়। যেমন,- ৯৮৭৬ সংখ্যাটি পরস্পর যোগ করলে হয় ৯+৮+৭+৬=৩০। আবার ৩০ কে পরস্পর যোগ করলে হয় ৩+০=৩। অর্থাৎ যতক্ষন না একক সংখ্যায় আসবে ততক্ষন পরস্পরকে যোগ করতে হবে। এক সময় তা ১ থেকে ৯ এর মধ্যে আসবেই। আর এই ১ থেকে ৯ সংখ্যা হল ৯টি প্রধান গ্রহের আধিভৌতিক বা অতিন্দ্রীয় প্রতিভূ যার প্রভাব মানব জীবনে অপরিসীম।

সংখ্যাতাত্ত্বিকগন (Numerologist) দীর্ঘকালের পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে প্রতিটি ব্যক্তি, বস্তু বা নামকে ইংরেজী বর্ণমালার ক্রমানুসারে সংখ্যায়িত করে মূল্যায়ন করেছেন। প্রশ্ন দেখা দিতে পারে জগতে অনেক ভাষা থাকতে ইংরেজী ভাষাকে বেছে নেয়া হল কেন? এর উত্তর হল,- প্রাচীনকালের বিভিন্ন প্রতীকই মূলতঃ কালের পরিক্রমায় বিভিন্ন প্রাচীন ভাষায় সংখ্যাতত্ত্ব বর্ণিত হলেও আধুনিক সংখ্যাতত্ত্ববিদ্যা ইংরেজীকে বেছে নিয়েছেন এর আন্তর্জাতিক আবেদনের কথা বিবেচনা করেই। কেননা এটি একটি আন্তর্জাতিক ভাষা এবং পৃথিবীর সকল গোলার্ধে এই ভাষা কমবেশি চর্চ্চা হয়। দ্বিতীয়তঃ অন্যান্য প্রধান ভাষা গুলোর আকার, ইকার, জের, জবর প্রভৃতি অথবা অক্ষর সংখ্যার প্রাচূর্যে বর্ণমালা অত্যন্ত জটিল। তাই ইংরেজীকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

জগতে নাম ছাড়া কি কিছু হতে পারে? পারেনা। আর নাম আছে যার সংখ্যাতত্ত্বে তারই বিচার সম্ভব। কি ভাবে? পর্যায়ক্রমে তা লিখতে চেষ্টা করবো।

সংখ্যাতত্ত্ববিদ্যা কি করতে পারে?

সংখ্যাতত্ত্ববিদ্যা সংখ্যা প্রতীক নিয়ে কাজ করে। কারো নাম ও জন্মতারিখকে সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার ব্যক্তিত্ব, বৈশিষ্ট্য, আবেগের বিষয়গুলি, শক্তি ও বুদ্ধিমত্তা সর্বোপরি ভিতরের প্রকৃত মানুষটিকে জানতে সাহায্য করে। আর ভিতরের প্রকৃত মানুষটিকে জানতে যে বিদ্যা সাহায্য করতে পারে সে বিদ্যা অবশ্যই মানুষের কল্যান করে। তা ছাড়া কোন স্থান, সময়, বিষয় সম্পর্কেও বিশ্লষণমূলক বর্ণনা করতে পারেসংখ্যাতত্ত্ববিদ্যা।

কোন দিনের, স্থানের, বিষয়ের কিংবা ব্যক্তির নিজের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগুলি নিজ জন্ম সংখ্যায় কিংবা আকর্ষনীয় সংখ্যায় হলে ভাল হয়। নতুবা অশুভ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আকর্ষনীয় (Attractive) সংখ্যার সাথে বন্ধুত্ব, প্রেম, রোমান্স, বিয়ে, ব্যবসা, অংশীদারী ইত্যাদি অপেক্ষাকৃত ভাল হতে পারে। বিকর্ষনীয় (Repulsive) সংখ্যার লোক একে অন্যকে সহ্য করতে পারেনা। তাদের থেকে অমঙ্গল হয় বলে সাবধান থাকতে হয়।

যাদের নিজের সংখ্যা- ১, তাদের আকর্ষনীয় সংখ্যা- ৪ ও ৮ এবং বিকর্ষনীয় সংখ্যা- ৬ ও ৭।
যাদের নিজের সংখ্যা- ২, তাদের আকর্ষনীয় সংখ্যা- ৭ ও ৯ এবং বিকর্ষনীয় সংখ্যা- ৫।
যাদের নিজের সংখ্যা- ৩, তাদের আকর্ষনীয় সংখ্যা- ৫, ৭ ও ৯ এবং বিকর্ষনীয় সংখ্যা- ৪ ও ৮।
যাদের নিজের সংখ্যা- ৪, তাদের আকর্ষনীয় সংখ্যা- ১ ও ৮ এবং বিকর্ষনীয় সংখ্যা- ২ ও ৪।
যাদের নিজের সংখ্যা- ৫, তাদের আকর্ষনীয় সংখ্যা- ৩ ও ৯ এবং বিকর্ষনীয় সংখ্যা- ২।
যাদের নিজের সংখ্যা- ৬, তাদের আকর্ষনীয় সংখ্যা- ৩ ও ৯ এবং বিকর্ষনীয় সংখ্যা- ১ ও ৮।
যাদের নিজের সংখ্যা- ৭, তাদের আকর্ষনীয় সংখ্যা- ২ ও ৬ এবং বিকর্ষনীয় সংখ্যা- ১ ও ৯।
যাদের নিজের সংখ্যা- ৮, তাদের আকর্ষনীয় সংখ্যা- ১ ও ৪ এবং বিকর্ষনীয় সংখ্যা- ৩ ও ৬।
যাদের নিজের সংখ্যা- ৯, তাদের আকর্ষনীয় সংখ্যা- ২, ৩ ও ৬ এবং বিকর্ষনীয় সংখ্যা- ৭।
পরবর্তীতে কিভাবে নিজের সংখ্যা নির্ণয় করা যায় সে সম্পর্কে লিখব আশাকরি।

জন্মসংখ্যা ও নামসংখ্যা নির্ণয় পদ্ধতিঃ-

পূর্বের পোস্টেই বলেছিলাম সংখ্যা নির্ণয় পদ্ধতি জানাব, তাহলে আসুন জেনে নেয়া যাক আমাদের প্রত্যেকের সংখ্যাগুলি। সংখ্যা দুই প্রকারে নির্ণয় করা যায়, একটি জন্মসংখ্যা অপরটি নামসংখ্যা। সঠিক জন্মতারিখ জানা থাকলেই শুধু জন্মসংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব। নতুবা নামসংখ্যাই ধরতে হবে। উল্লেখ্য যে, জন্মসংখ্যার মত নামসংখ্যা অতটা ভূমিকা রাখতে পারেনা বলে জন্মসংখ্যার গুরুত্বই বেশি। আবার জন্মসংখ্যাও দুই প্রকারের, একটি জন্মদিনের সংখ্যা অপরটি জন্মতারিখের সংখ্যা। যেমন, কারো জন্ম ১৪ জুন ২০১৩ যদি হয়, তাহলে তার জন্মদিনের সংখ্যা হল- ৫। আর তার জন্মতারিখের সংখ্যা হল- ৮। যদিও দুটি সংখ্যাই তার জীবনে প্রভাব বিস্তার করবে, তবে জন্মদিনের সংখ্যাই হবে মূখ্য। এবার বলছি কিভাবে সংখ্যা দুটি নির্ণিত হল।

আমরা জানি একক সংখ্যা হল ১ থেকে ৯ । শূণ্য কোন সংখ্যা নয়। বাকি সংখ্যাগুলি এই ১ থেকে ৯ এরই পুনরাবৃত্তি শুধু বা যৌগিক সংখ্যা। অতএব পুনরাবৃত্তির সংখ্যাগুলিকে পরস্পর যোগ করে একক সংখ্যায় আনতে হবে যতক্ষণ না একক সংখ্যায় আসে। যেমন, ১৪ জুন ২০১৩ এর জন্মতারিখের সংখ্যা ৮ হল যেভাবে। ১+৪+৬ (জুন মাসের সংখ্যা)+২+০+১+৩= পরস্পর যোগ করে হয় ১৭। যেহেতু ১৭ কোন একক সংখ্যা নয় তাই এটিকেও পরস্পর যোগ করতে হবে। যেমন, ১+৭= ৮ । আর জন্মদিনের সংখ্যা ৫ হল ১ আর ৪ এর যোগফল। উল্লেখ্য যে, জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর অবধি মাসকে ১ থেকে ১২ ধরতে হবে। আরো উল্লেখ্য যে, এই পদ্ধতিতে শুধুমাত্র যেকোন খ্রিস্টীয় সনের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর অবধি যেকোন মাসের তারিখ গ্রহন করতে হবে।

আরো পরিষ্কার করে বলছি, যাদের জন্ম যেকোন মাসের ১, ১০, ১৯ ও ২৮ তারিখে তাদের জন্মদিনের সংখ্যা- ১। যাদের জন্ম যেকোন মাসের ২, ১১, ২০ ও ২৯ তারিখে তাদের জন্মদিনের সংখ্যা- ২। যাদের জন্ম যেকোন মাসের ৩, ১২, ২১ ও ৩০ তারিখে তাদের জন্মদিনের সংখ্যা- ৩। যাদের জন্ম যেকোন মাসের ৪, ১৩, ২২ ও ৩১ তারিখে তাদের জন্মদিনের সংখ্যা- ৪। যাদের জন্ম যেকোন মাসের ৫, ১৪ ও ২৩ তারিখে তাদের জন্মদিনের সংখ্যা- ৫। যাদের জন্ম যেকোন মাসের ৬, ১৫ ও ২৪ তারিখে তাদের জন্মদিনের সংখ্যা- ৬। যাদের জন্ম যেকোন মাসের ৭, ১৬ ও ২৫ তারিখে তাদের জন্মদিনের সংখ্যা- ৭। যাদের জন্ম যেকোন মাসের ৮, ১৭ ও ২৬ তারিখে তাদের জন্মদিনের সংখ্যা- ৮। যাদের জন্ম যেকোন মাসের ৯, ১৮ ও ২৭ তারিখে তাদের জন্মদিনের সংখ্যা- ৯।

এবার নামসংখ্যা নির্ণয়ের সূত্র বলছি। এই পদ্ধতিতেও শুধুমাত্র ইংরেজি বর্ণমালাকে গ্রহন করতে হবে। আমরা সকলেই জানি ইংরেজি বর্ণমালায় ২৬টি বর্ণ আছে। এই ২৬টি বর্ণকে ১ থেকে ৯ সংখ্যায় আনতে হবে নিম্নোল্লেখিতভাবে। যেমন, A, I, J, Q, Y এর মান হল- ১। B, K, R এর মান হল- ২। C, G, L, S এর মান হল- ৩। D, M, T এর মান হল- ৪। E, H, N, X এর মান হল- ৫। U, V, W এর মান হল- ৬। O, Z এর মান হল- ৭। F, P এর মান হল- ৮। এই হল ২৬টি বর্ণের মান।

এবার নির্ণয় করি কারো নাম FARIDA YASMIN হলে তার নামসংখ্যা কত ? F ৮+A ১+R ২+I ১+D ৪+A ১= ১৭ অর্থাৎ ১+৭= ৮ এবং Y ১+A ১+S ৩+M ৪+I ১+N ৫=১৫ অর্থাৎ ১+৫= ৬। পূর্ণ নামের সংখ্যা ৮+৬= ১৪ অর্থাৎ ১+৪= ৫। তাহলে দেখা যাচ্ছে ৮ ও ৫ দুটি সংখ্যাই এক্ষেত্রে প্রভাব রাখছে। কেননা FARIDA YASMIN কে সচরাচর FARIDA সম্ভোধনও করা হয়ে থাকে। আবার কারো নাম TOUHIDUL ISLAM SHILU হলে তার নামসংখ্যা কত ? T ৪+O ৭+U ৬+H ৫+I ১+D ৪+U ৬+L ৩= ৩৬ অর্থাৎ ৩+৬= ৯, I ১+S ৩+L ৩+A ১+M ৪= ১২ অর্থাৎ ১+২= ৩, আবার S ৩+H ৫+I ১+L ৩+U ৬= ১৮ অর্থাৎ ১+৮= ৯। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে TOUHIDUL ISLAM SHILU পূর্ণ নামের সংখ্যা ৯+৩+৯= ২১ অর্থাৎ ২+১= ৩ এবং শুধুমাত্র SHILU নামের সংখ্যা ৯। তার অর্থ ৩ ও ৯ দুটি সংখ্যাই এক্ষেত্রে প্রভাব রাখছে। এভাবেই সকল নামের সংখ্যা নির্ণয় করতে হবে। উল্লেখ্য যে, জন্মদিনের সংখ্যার সাথে মিলিয়ে শিশুর নাম রাখা উচিত, তবেই নামসংখ্যা ও জন্মসংখ্যা এক হতে পারে। নতুবা দুটি সংখ্যাই জীবনে প্রভাব বিস্তার করবে।
পরবর্তীতে কোন সংখ্যার লোকেরা কেমন হয় তা লিখার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ্।

সংখ্যার শিকল থেকে কেউ মুক্ত নইঃ-

সংখ্যার একটি গোপন শক্তি আছে! আর তা এমন এক শক্তি যা শুধু প্রকৃতির শক্তির সাথেই তুলনা করা চলে। কেননা মানুষ জগতের সকল আইনকে অমান্য করতে পারলেও সংখ্যাকে কেউ উপেক্ষা করতে পারেনা। এড়িয়ে যেতে পারেনা। সংখ্যার শক্তি গোপনে মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র, প্রতিটি কর্ম, প্রতিটি বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে। কেউ যদি সংখ্যার শক্তি সম্বন্ধে অবগত নাও থাকে বা এ বিষয়ে কোন আগ্রহও না থাকে, তবুও সে সংখ্যাকে মেনে চলছে। সংখ্যার অলৌকিক মহাশক্তির কাছে আমরা সকলেই তার ইচ্ছাধীন। সংখ্যার শিকল যে মানুষকে গোপনে বেঁধে রেখেছে এবং এ থেকে মুক্তি পাওয়ার যে পথ নেই তার প্রমান সকলেই দিবেন। সংখ্যার যে অলৌকিক মহাশক্তি আছে, তা আমরা আমাদের দৈনন্দিন কাজের বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে পারব। আর তখনি কোরআনের কথার নির্ভূল সত্যতা অনুধাবন করতে পারব।

পবিত্র কোরআন শরীফে আল্লাহ্ বলেন, – “………তিনি সূর্য্যকে করেছেন উজ্জল আর চন্দ্রকে করেছেন আলোকপ্রদ আর তার (চন্দ্রের) জন্য নির্ধারিত করেছেন অবস্থান সমূহ যেন তোমরা জানতেপার সংখ্যা ও হিসাব। আল্লাহ্ এদেরকে সৃষ্টি করেননি সত্যে ভিন্ন; তিনি নির্দেশনাবলী বিশদ করেন সেই লোকদের জন্য, যাদের জ্ঞান আছে। নিঃসন্দেহ রাত্রি ও দিনের পার্থক্যে আর যা আল্লাহ্ সৃষ্টি করেছেন অন্তরীক্ষে ও পৃথিবীতে (এসবে) নিদর্শন রয়েছে সেই লোকদের জন্য, যারা সীমা রক্ষা করে।” – সূরা ইউনুস, ১ : ৫-৬।
যেহেতু সংখ্যার শিকল থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ নেই, যেহেতু জীবন চলার পথে সংখ্যা ওতপ্রোতভাবে জড়িত, সেহেতু আমরা যদি জেনে বুঝে সেই সংখ্যাকে আমাদের প্রয়োজনের অনুকুলে ব্যবহার করতে পারি তবে আমরা অবশ্যই উপকৃত হব। সংখ্যাতত্ত্ব মূলতঃ সেই অতীন্দ্রিয়, রহস্যময়, গোপন কৌশলটাই ব্যাখ্যা করে আমাদেরকে পথ-নির্দেশ দিতে পারে। আমরা যদি তা জেনে নিতে পারি, তবে প্রকৃতির পরিকল্পনার আয়ত্বে আসতে পারব। ফলে জীবন হতে পারে অপেক্ষাকৃত নির্ঝঞ্ঝাট, শান্তিময় ও পরিপাটি। আমরা হতে পারি অপেক্ষাকৃত সুখি ও সফল। নচেৎ অন্ধকারে পথচলা পথিকের পরিণতিই বরণ করতে হতে পারে আমাদেরকে।

পূর্বের পোস্টেই বলেছিলাম, পরবর্তীতে কোন সংখ্যার লোকেরা কেমন হয় তা লিখার চেষ্টা করব । কিন্তু সংখ্যার শক্তি সম্পর্কে এই কথাগুলি না বললে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাই পুনঃরায় বলছি, কোন সংখ্যার লোকেরা কেমন হয় তা জানতে আপনাদের কে অবশ্যই আমাদের যোগাযোগ পেইজে গিয়ে এ্যডমিনের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।  পুরো আলোচনাটি পড়ার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ।।।