সব থেকে মেডিটেশন করার সহজ উপায়

সব থেকে মেডিটেশন করার উপায়ঃ

এভাবে মেডিটেশন করুন সব বদলে যাবে?

হ্যালো বন্ধুরা লজ্জাতুন নেছা ওয়েব সাইটের পক্ষ্য থেকে আপনাদে সবাইকে স্বাগতম। আমাদের আজকের বিষয় কিভাবে সহজে মেডিটেশন করা যায়। এর আগেও আমরা মেডিটেশন এর অনেক আলোচনা করেছি। এর আগের একটি আলোচনায় বলা হয়েছিলো মেডিটেশনের পাওয়ার এর কথা, মেডিটেশন করার ফলে আপনার জিবনে কি কি লাভ হবে ও পরিবর্তন হবে এই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছিলো। কিন্তু আজকে আমি বলবো কিভাবে আপনি সহজে মেডিটেশন করবেন। আজকের এই আলোচনাটি সম্পূর্ণ পড়ার পর মেডিটেশন নিয়ে কোন প্রকার সন্দেহ থাকবে না বলে আমরা মনে করি, যে কি করে মেডিটেশন করতে হয় বা কখন করতে হয় এবং কত সময়ের জন্য ইত্যাদি ইত্যাদি। আজকের আলোচনাটি পড়ে মেডিটেশনের প্রথম হতে শেষ পর্যন্ত জানতে পারবেন। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

আসলে বন্ধুরা ভালবাসা যেমনি করা যায় না, কিন্তু ভালবাসা হয়ে যায়। ঠিক তেমনি মেডিটেশন করা যায় না, তবে অনেক সময় মেডিটেশন হয়ে যায়। আজকের আলোচনাটি হয়তো লম্বা হবে, তবে তিন মিনিটেও মেডিটেশন সম্পর্কে বলা যায় তবে মাথা মুন্ডু কিছুই বোঝা যায় না। আজকে আমরা মেডিটেশনের ব্যসিক থেকে শুরু করে সব বিষয় গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

আপনি মেডিটেশনে যাওয়ার আগে কিছু কথা আপনার জেনে রাখা ভালো, মেডিটেশনে যাওয়ার আগে পরিষ্কার পরিছন্নতা বজায় রাখবেন। আর যে জায়গাটায় মেডেটেশন করবেন সেই জায়গাটা যেন পরিষ্কার পরিছন্নতা থাকে। বহু যুগ আগে মেডিটেশন বা ধ্যান বন-জঙ্গলে গিয়ে করা হতো। কারন সেখানে কেউ তাদের ডিস্ট্রাব করতো না। কিন্তু বর্তমান যুগে হয়তো বনে গিয়ে মেডিটেশন করাটা সম্ভব না। তাই আপনি আপনার ঘরের রুমকেই বেছে নিতে পারেন, মেডিটেশনের জন্য। তবে ঘরের বাহিরে বাগান কিংবা গাছের নিচে বসে মেডিটেশন করলে ভাল হয়। প্রকৃতির সাথে আমাদের নিবিড় একটা সম্পর্ক আছে তাই খোলা জায়গায় মৃদু বাতাসের সাথে মেডিটেশন করলে খুব ভাল হয়। যদি আপনি এরকম জায়গায় মেডিটেশন করতে অসুবিধা বোধ মনে করেন তাহলে আপনি রুমের ভিতরেই মেডিটেশন করতে পারবেন। শুধু দেখবেন রুমটা যেন পরিষ্কার পরিছন্ন থাকে। এবার বেশি দরকার হলো নিরবতা। কিন্তু আজকের দিনে বাড়ির ভিতরে নিরবতা আর কোথায় পাবেন। এই সমস্যার সমাধান হলো ইয়ারপ্লাগ বাজারে এমন অনেক ইয়ারপ্লাগ পাওয়া যায়, যার মূল্য খুব একটা বেশি না। আপনি দুটো ইয়ারপ্লাগ কিনে আপনার দুকানে লাগিয়ে নিন। তাহলেই বাহিরে যত আওয়াজ হোক না কেন আপনার কানে আর কোন আওয়াজ আসবে না। এবার প্রশ্ন হলো মেডিটেশন কিভাবে করতে হয়। দেখুন মেডিটেশন শুধু মাত্র এক প্রকারের হয় না। মেডিটেশন বা ধ্যান অনেক প্রকারের হয়, আর অনেক ভাবে বসে মেডিটেশন করা যায়, এমন কি শুয়ে শুয়ে ও মেডিটেশন করা যায়। আমরা এখানে আলোচনা করবো ব্যাসিক মেডিটেশন নিয়ে।

এবার আপনি এই ভাবে বসে পড়ুন- ( উপরের ছবিতে যেভাবে মেয়েটি মেডিটেশনের জন্য বসেছে)

যাতে আপনি একেবারে খুব নিরবতা ফিল করেন। ঠিক ঠাক ভাব বসে পড়ুন এবার আপনি আপনার পিঠের মেরুদন্ড সোজা করুন। যদি আপনি আপনার পিঠের মেরুদন্ড সামনের দিকে নুয়ে রাখেন তাহলে আপনার মেডিটেশনে সমস্যা হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছিলো। যার কারণে বুকের ব্যাথা দেয়া দেয়। তাই আপনি আপনার মেরুদন্ড একদম সোঁজা রাখুন। তাহলে আর কোন সমস্যা হবে না। এবার আপনি আপনার মাথাকে সামনের দিকে সামন্য ঝুঁকিয়ে রাখুন। এবার রোখ বন্ধ করুন। তারপর ১০-২১ বারের মতো গভীর স্বাস নিন। তবে একদম রিলাক্স হয়ে স্বাস নিবেন এবং রিলাক্স হয়ে স্বাস ছাড়বেন। এভাবে কিছুক্ষন স্বাস নেওয়া ও ছাড়ার পর আপনি যেমন নরমালি স্বাস প্রস্বাস নেন ও ছাড়েন ঠিক সেই ভাবেই নিন ও ছাড়ুন। এবার আপনি বন্ধ চোখে আপনার স্বাস ও প্রস্বাস কে দেখুন ও ভাবার চেষ্টা করুন। আর সেটাকে ফিল করুন। আর দেখুন কেমন করে আপনার স্বাস প্রস্বাস আপনার ভিতরে যাচ্ছে ও বাহির হচ্ছে। আপনি ফিল করতে থাকুন যে, কেমন করে আপনার স্বাস ও প্রস্বাস আপনার গলার ভিতর দিয়ে আপনার কলিজায় স্পর্শ করে আপনার নাভি বরাবর প্রবেশ করছে। তারপর আরোও দেখুন কিভাবে আপনার সেটা বুক ও গলা দিয়ে বের হয়ে আবার নাক দিয়ে বাহিরে যাচ্ছে। আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন তাহলে হয়তো আপনার অনেক প্রবলেম হতে পারে। এটা সবার সাথেই হয়ে থাকে। কম আর বেশি এই সমস্যা গুলো সবার সাথেই হয়ে থাকে। আপনি যখন নতুন মেডিটেশন করতে শুরু করবেন তাহলে আপনার সাথে যেটা হবে, আপনার মাথায় নানা ধরনের চিন্তা আসতে শুরু করেছে। আপনাকে এটা করতে হবে সেটা করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার মাঝে মাঝে এমন হয় যে, অনেক পুরোনো কোন কাহিনী বা গল্প মনে পড়ে যায়। এটা স্বাভাবিক এটা সবার সাথেই হয়। আর তখনি অনেকেই মেডিটেশন করা ছেড়ে দেয়। দেখুন আপনি যখন একজায়গাই ফোকাস করতে যাবেন তখন আপনার মাইন্ডে অনেক ধরনের চিন্তা ভাবনা আসতেই পারে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেইসব চিন্তার মাঝে হারিয়ে গেলে চলবে না। আপনি যদি এইসব চিন্তার মাঝে হারিয়ে যান তাহলে আপনি কোন দিনই মেডিটেশন করতে পারবেন না। এই চিন্তাকে দূর করার একটাই উপায়, আপনি আপনার স্বাস প্রস্বাসের উপর আবার মনোযোগ বাড়ান তাহলেই দেখবেন যে, কয়েক মিনিটের ভিতরেই আপনার চিন্তা ভাবনা গুলো হারিয়ে গেছে। তবে এটা মাথায় রাখবেন, আপনি কখনোই এইসব চিন্তা ভাবনা গুলোকে কোন ভাবেই থামানোর চেষ্টা করবেন না। কারণ এই সকল চিন্তা ভাবনা গুলো সব সময় আপনার আশে পাশে ঘুরাঘুরি করে ও আপনার মনের ভিতরে প্রবেশ করতে চায় কিন্তু আপনি ব্যস্ত থাকার কারণে সেই সকল চিন্তা ভাবনা গুলো আপনার সংস্পর্শে আসতে পারে না। তাই আপনি যেহুতু মেডিটেশন করার সময় নিরবতা ফিল করতেছেন তাই এরা আপনার কাছে উপস্থিত হয়েছে। তবে এদেরকে ক্রমান্বয়ে আটকাতে হবে। যখন আবার বিভিন্ন চিন্তা মাথায় আসবে তখন আবার স্বাস প্রস্বাসের দিকে মনটাকে ঘুরিয়ে নিবেন। এরপর অনেকের হয়তো মনে হতে পারে যে, ধুর আমি কি করতেছি এইসব বসে বসে শুধু স্বাস প্রস্বাস দেখতেছি আর নিতাছি এটা আবার কেমন কাজ। আর এখানেই অর্ধেকের বেশি মানুষ মেডিটেশন করা ছেড়ে দেয়। কিন্তু আমরা চ্যালেন্জ করছি আপনি যদি নতুন অবস্থায় পাঁচ মিনিট ও চুপ করে বসে থাকতে পারেন তাহলে আপনার অবস্থা এমন হবে যে, যেমন টা হয় নতুন নতুন লাভারদের। মানে আপনি মেডিটেশন ছাড়া থাকতে পারবেন না। পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন কাজ হচ্ছে অনেক সময় নিরবতা পালন করা। আর তাই অনেকেই এই মেডিটেশনকে খুব কষ্টের কাজ বলে মনে করেন। আসলেই নরমালী একজন মানুষের পরিবেশ এরকম চুপ করে থাকা নয়। তাই আপনারও এমন টা মনে হতে পারে, মেডিটেশন খুব কঠিন ও কষ্টসাধ্য কাজ। কিন্তু আপনি যখন কিছুদিন এই মেডিটেশন করতে পারবেন তাহলে দেখবেন যে, আপনি এর ভিতরেই ইন্টারেস্টেট খুজে পাচ্ছেন ও জিবনে সাফল্য লাভ করতে চলেছেন। এবার আপনার মনে হতে পারে আচ্ছা বলুন এভাবে কতক্ষন বসে থাকতে পারি! আসলে আপনি প্রথম প্রথম দুই মিনিট থেকেও শুরু করতে পারেন। তারপর ক্রমান্বয়ে প্রতিদিন দুই মিনিট দুই মিনিট করে বাড়াতে থাকুন। এভাবে একটু একটু করে সময় বাড়িয়ে নিয়ে প্রায় ১০-৩০ মিনিট করে মেডিটেশন করুন। এটা নির্ভর করছে আপনার উপরে আপনি চাইলে এর বেশিও করতে পারেন। কিন্তু মিনিমাম ১০ মিনিটের জন্য মেডিটেশন আপনাকে করতেই হবে যদি আপনি আপনার অবচেতন মনকে কন্ট্রোল করতে চান। কিছুদিন পর আপনি যখন মেডিটেশন নিয়মিত করে যাবেন দেখবেন আপনি আপনার স্বাস প্রস্বাসের দিকে বেশি ফোকাস করতে হচ্ছে না। মেডিটেশনে বসেই দেখবেন আপনার মাইন্ড পাওয়ার শুরু হয়ে যাচ্ছে। এটা অমনি ভাবেই হয়ে যাচ্ছে তখন আর কোন সমস্যা হবে না। মেডিটেশন করার সময় সব থেকে বড় সমস্যা হলো, আমাদের মাইন্ড তখন রিলাক্স থাকে না। মেডিটেশনে যাওয়ার সময় যদি মাইন্ড কে রিলাক্স করে দেওয়া যায় তাহলে দেখবেন আমাদের মাইন্ড আগে থেকেই রিলাক্স থাকবে ও মেডিটেশনের শুরুতেই আপনি আপনার অবচেতন মনকে আহ্বান করতে পারবেন। এখন কথা হলো মেডিটেশন করা সবচেয়ে ভালো সময় কোন টা? দেখুন আপনি মেডিটেশন যেকোন সময় করতে পারেন। তবে সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে মেডিটেশন করলে ভাল হয়। মেডিটেশনের বেষ্ট সময় হলো ভোরের বেলায়। অনেকেই আছে যারা রাতে ঘুমানোর আগে মেডিটেশন করে। তবে হ্যা আপনি যদি ভোরের সময় মেডিটেশন করেন তাহলে দেখবেন এর উপকার আপনি সারাদিনের কাজ কর্মের ভিতরেও পাচ্ছেন ও এর সুপার পাওয়ার সব কাজে ফোকাস করতেছে। তাহলে আপনি এর বেনিফিট সারাদিনের কাজের মধ্যে পাচ্ছেন। আপনি রাত্রেও মেডিটেশন করতে পারেন। আপনি যখন খুশি তখন মেডিটেশন করতে পারবেন। দেখুন বন্ধুরা মেডিটেশনকে অনেক জায়গায় অনেক ভাবেই করা যায়। কিন্তু যেটা উল্লেখ করাম সেটাই সবচেয়ে সহজ মেডিটেশন বা ধ্যান। আর এ ছাড়াও আরোও মেডিটেশন আছে। যেমন-

Subconscious Mind কে আনলক করার মেডিটেশন।

Third Eye কে ওপেন করার মেডিটেশন।

কুন্ডলনী জাগরণের মেডিটেশন।

ইত্যাদি টাইপের অনেক মেডিটেশন রয়েছে। কিন্তু আজকে আমরা যে মেডিটেশন সম্পর্কে আলোচনা করলাম, সেটাই বহুল প্রচলিত। তবে অন্যান্য মেডিটেশন গুলো পেইড কোর্চে করা হয়। অনেকেই বলে মেডিটেশনে সাইড ইফেক্ট আছে তবে আমাদের প্রতিষ্ঠানের কারোর সাথে এরকম টা হয় নি। হতে পারে কোন সমস্যা তবে সেটা হয় সঠিক গাইড লাইন ব্যতিত। আপনি যদি সঠিক ভাবে বসতে না পারেন ও আপনার সস্তিষ্ক থেকে চিন্তা গুলো দূর করতে না পারেন সেক্ষেত্রেই সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তবে মেরুদন্ড সোজা রাখার কারনে হয়তো সামান্য একটু পিঠে ব্যথা হতে পারে। তবে সেটা কয়েক দিন করলে অভ্যাসে পরিনত হয়ে যাবে। মেডিটেশন করে আপনি নূন্যতম ৭-১৪ দিন পর পরই উপকার পাবেন। এর আগে পাওয়া বা স্বাছন্দবোধ পাওয়া ঠিক হবে না। ১৪ দিন পর আপনি নিজেই চেন্জ হতে থাকবেন আর নিজেকে প্রফুল্য বোধ মনে করবেন। এটা কোন ধর্মবিরোধী ধ্যান নয়। এটা যেকোন ধর্মের লোকেরাই করতে পারবে। আপনার লাইফকে Successful বানাতে মেডিটেশন একটা হাতিয়ার হয়ে কাজ করবে। আপনার সকল বাঁধা ও গ্লানি ধুয়ে মুছে দিতে সক্ষম হবে এই মেডিটেশন। মেডিটেশনের বেনিফিট আপনি আপনার প্রতিদিনের প্রত্যেকটি কাজের ভিতরে খুঁজে পাবেন। আমরা চেষ্টা করেছি ব্যাসিক মেডিটেশন কিভাবে করবেন সেটা তুলে ধরার জন্য। আপনারা সবাই দীর্ঘদিন ধরে মেডিটেশন করুন ও উপকৃত হন।

বিঃদ্রঃ- মেডিটেশন বা ধ্যান ও ত্রাটক সাধনা সম্পর্কে আমাদের একটি পেইড কোর্চ রয়েছে। এই কোর্চটির মাধ্যমে আপনি আপনার সকল বাঁধা বিপত্তি গুলোকে দূর করতে সক্ষম হবেন ও জিবনের সকল কাজে সফলতা পাওয়ার প্রফুল্লতা অর্জন করবেন। তাই যদি কেউ এই কোর্চটি নিতে চান তাহলে আমাদের সাথে এখনি যোগাযোগ করুন।

মোবাইল নাম্বার-+8801767296990

মেডিটেশন করার জন্য উপরোক্ত বইটি আপনাকে শতভাগ সহযোগীতা করবে, তাই এই বইটি সংগ্রহ করুন। এই বইটির মূল্য- ১০০০০(দশ হাজার) টাকা।