হাঁচি আর হাঁচি অস্বস্তিকর হাঁচি

হাঁচি আর হাঁচি অস্বস্তিকর হাঁচিঃ

হাঁচি হলো এক ধরনের শারীরিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শরীর থেকে উদ্দীপক বা উত্তেজক বস্তু অপসৃত হয়। কিছু স্পর্শকাতর দ্রব্য যেমন ধুলাবালি, পশুপাখি বা ফুলের পরাগের সংস্পর্শে এলে অ্যালার্জি আক্রান্তদের এ সমস্যাটি হয়। এমনকি তীব্র গন্ধ, তাপমাত্রার পরিবর্তনেও এটি হতে পারে।
সাধারণ হাঁচির উৎপাদকগুলো
মাইট (যা পুরাতন ধুলা-বালিতে থাকে), মোল্ড, ফুলের রেণু বা পরাগ, ঠাণ্ডা এবং শুষ্ক আবহাওয়া, ঘরের ধুলা-ময়লা, প্রাণীর পশম এবং চুুল, ওষুধসহ কিছু রাসায়নিক দ্রব্যাদি, প্রসাধনসামগী, উগ্র সুগন্ধি বা তীব্র দুর্গন্ধ।
অ্যালার্জিজনিত হাঁচির লক্ষণ
হাঁচি একটি অ্যালার্জিজনিত রোগ। কারও ক্ষেত্রে সামান্যতম সমস্যা হলেও আবার কারও ক্ষেত্রে দুর্বিষহ জীবন। হাঁচির সঙ্গে সম্পৃক্ত রোগ হলো অ্যালার্জিক রাইনাইটিস ও অ্যাজমা।
প্রথম প্রথম কেউ সমস্যাগুলোকে আমলে নেন না। প্রায় সময় যখন অনবরত হাঁচি বা নাক বন্ধ হয়ে যায় তখন এ লক্ষণগুলোকে রোগ হিসেবে ভাবতে শুরু করেন এবং দু-একটি অ্যান্টিহিস্টামিন খেতে শুরু করেন। অ্যান্টিহিস্টামিন খেলে অবশ্য রোগের লক্ষণ কিছুটা উপশম হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তিনি অ্যান্টিহিস্টামিনের পাশাপাশি স্প্রে আকারে স্টেরয়েড নাকের নাসারন্ধ্রে ব্যবহার করতে বলেন। এতে অবশ্য রোগী আগের তুলনায় অনেক বেশি ভালো অনুভব করেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, যতদিন নেসাল স্টেরয়েড ব্যবহার করেন ততদিনই ভালো থাকেন; যেই নাকের স্প্রে বন্ধ করেন সঙ্গে সঙ্গে না হলেও কিছুদিন পরই শুরু হয় তার সেই পূর্বাবস্থা। এগুলো হলে আপনি অ্যালার্জিজনিত রোগে বিশেষত অ্যালার্জিক রাইনাইটিস রোগে ভুগছেন ধরে নিতে হবে। এই রোগের সঠিক চিকিৎসা না নিলে পরে অ্যাজমাতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে ৭০-৮০ ভাগ।
রোগ থেকে মুক্তির উপায়
প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সমন্বিতভাবে এ রোগের চিকিৎসা হলো
অ্যালারজেন পরিহার
যখন অ্যালার্জির সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় তখন তা পরিহার করে চললেই সহজ উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ওষুধ প্রয়োগ
ওষুধ প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে অ্যালার্জির উপশম অনেকটা পাওয়া যায় ।
অ্যালার্জি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি
অ্যালার্জি দ্রব্যাদি থেকে এড়িয়ে চলা ও ওষুধের পাশাপাশি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি অ্যালার্জিক রাইনাইটিস/অ্যাজমা রোগীদের সুস্থ থাকার অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি ।
বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই ভ্যাকসিন পদ্ধতির চিকিৎসাকে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস রোগের অন্যতম চিকিৎসা বলে অভিহিত করেছেন । আগে ধারণা ছিল অ্যালার্জি একবার হলে আর সারে না। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। প্রথমদিকে ধরা পড়লে অ্যালার্জিজনিত রোগ একেবারে সারিয়ে তোলা সম্ভব।